ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আবারও বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। স্থানীয় সময় সোমবার ভোরে সংঘটিত এই হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং প্রায় ৬০ জন আহত হয়েছেন। আবাসিক ভবন ধসে পড়ার পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধারকর্মীরা এখনও ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই হামলা ঘটে যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন। সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি-এর সঙ্গে তার বৈঠকেরও কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইউক্রেন যুদ্ধ, সামরিক সহায়তা এবং সম্ভাব্য শান্তি উদ্যোগই হবে সেই বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয়।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া একযোগে ৬৮টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৫০টির বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করে। তাদের দাবি, বহু ড্রোন ও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা সম্ভব হলেও উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানো যায়নি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতির কারণে ক্ষয়ক্ষতি বেড়েছে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো। তবে ইউক্রেন বলছে, হামলার বড় অংশই আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষ হতাহত হয়েছেন।
হামলার পর প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ন্যাটো নেতাদের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ এখন অত্যন্ত জরুরি। এদিকে ইউরোপীয় নেতারাও ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাটো সম্মেলনের ঠিক আগে কিয়েভে এই বড় ধরনের হামলা ইউক্রেন যুদ্ধকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে এটি সম্মেলনে ইউক্রেনের নিরাপত্তা, পশ্চিমা সামরিক সহায়তা এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণের আলোচনাকে আরও গুরুত্ব দেবে।

