জাবেদ শেখ,জেলা প্রতিনিধি:
শরীয়তপুর জেলা নির্বাচন অফিসে দালাল ছাড়া সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পান না বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দালালের মাধ্যমে গেলে জটিল কাজও অল্প সময়ে সম্পন্ন হয়ে যায়। কিন্তু সরাসরি অফিসে গেলে নানা অজুহাতে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়, চাওয়া হয় অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোর্ট এলাকার কয়েকটি কম্পিউটারের দোকানকে কেন্দ্র করে একটি দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা ভোটার নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন, পাসপোর্টসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আদায় করে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতির সঙ্গেও এসব দোকানের কয়েকজন জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নারী ভিডিও বক্তব্যে জানান, তার স্থায়ী ঠিকানা ঢাকা জেলায় এবং জন্মনিবন্ধনও সেখানকার। বর্তমানে তিনি শরীয়তপুর শহরের চৌরঙ্গী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। তার দাবি, কোর্ট এলাকার একটি কম্পিউটারের দোকানের মাধ্যমে ১৪ হাজার টাকার বিনিময়ে শরীয়তপুরের ঠিকানায় জাতীয় পরিচয়পত্র (ভোটার) করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও কোর্টের মহুরি মোহাম্মদ আলী ঢালী অভিযোগ করেন, নাতিকে ভোটার করার জন্য নির্বাচন অফিসে গেলে সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান প্রথমে নাতির মায়ের বয়স কম বলে আপত্তি তোলেন। পরে অষ্টম শ্রেণির সনদপত্র চাওয়া হয়। তিনি বলেন, “আমি জানাই, আমার মেয়ে চতুর্থ শ্রেণির পর আর পড়াশোনা করেনি। তাহলে অষ্টম শ্রেণির সনদ কোথা থেকে দেব?”
তার ভাষ্য, এ সময় অফিসের ভেতরে থাকা এক ব্যক্তি ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “কিছু টাকা-পয়সা দিলে হয়ে যাবে।” পরে তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ করেন।
মোহাম্মদ আলী ঢালীর দাবি, অভিযোগের পর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তাকে অফিসে ডেকে অভিযোগ প্রত্যাহারের অনুরোধ করেন এবং ভোটার করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি ভোটার নিবন্ধনের স্বার্থে অভিযোগ প্রত্যাহার করলে পরে কাজটি সম্পন্ন হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “দালালদের সঙ্গে অফিসের কিছু লোকের যোগাযোগ রয়েছে। ফোনে কথাবার্তা হয়, তাদের মাধ্যমেই ঘুষের টাকা লেনদেন করা হয়। আমাকে চার মাস হয়রানি করা হয়েছে।”
এসব অভিযোগের বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগের প্রমাণ দেখতে চান। পরে ভিডিওসহ প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানো হলে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করেননি।
অন্যদিকে, পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে দালালচক্র সম্পর্কে অবগত বলে দাবি করেন, বলেন, কোর্ট এলাকার মোজাম্মেল কম্পিউটার, খান কম্পিউটারের ইমরান হোসেন, নড়িয়া উপজেলার রাহাত কম্পিউটার এবং রোহান কম্পিউটারের মাধ্যমে নির্বাচন অফিসের বিভিন্ন কাজ করিয়ে দেওয়া হয় বলে তিনি জানেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে মোজাম্মেল ও ইমরান হোসেনের কাছে গেলে ইমরান হোসেন ক্যামেরা সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে প্রতিবেদকের দাবি। এ সময় মোজাম্মেল বলেন, “আমি শুধু ফরম পূরণ করে দিই। কোথায় জমা দিতে হবে, সেটা বলে দিই। নির্বাচন অফিসে রানা নামে একজনের কাছে দিতে বলেছি। কাজ হয়ে গেলে আমাকে কিছু টাকা দিয়েছে। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।”

