এস কে রাসেল দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে আবাদি জমির পাশ থেকে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। এতে এক পরিবারের বসতভিটা, আবাদি জমি ও একটি সরকারি সড়ক ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা খোদেজা আক্তার।
লিখিত অভিযোগে খোদেজা আক্তার জানান, যমুনা নদীর শাখা নদীর ভাঙনে তার নিজস্ব জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বর্তমানে তিনি অন্যের জায়গায় একটি ঘর তুলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দীর্ঘদিন নদীগর্ভে থাকার পর প্রায় দুই বছর আগে তার জমি পুনরায় জেগে ওঠে। এরপর থেকে ওই জমিতে বাদামসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন।
তার অভিযোগ, স্থানীয় মো. আ. ছালাম (পিতা: মৃত আ. মজিদ), মো. নান্নু মিয়া (পিতা: বাচ্চু মিয়া) এবং মো. রনি (পিতা: মো. আবুল কালাম আজাদ) জোরপূর্বক তার জমির পাশেই অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করছেন। এতে তার আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বসতভিটা ভাঙনের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে পাশের সরকারি রাস্তাটিও ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছে।
খোদেজা আক্তার আরও অভিযোগ করেন, তিনি মাটি কাটা বন্ধ করতে গেলে অভিযুক্ত ছালাম ও তার সহযোগীরা তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন। বিষয়টি স্থানীয়দের জানালেও কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত ছালাম উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব এবং নান্নু মিয়া চকমিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় তাদের প্রভাবের কারণে এলাকাবাসী মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার কারণে তার একমাত্র সম্বল বসতভিটা এবং আবাদি জমি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। দ্রুত এ কার্যক্রম বন্ধ করা না হলে তার বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি সরকারি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও বাড়বে।
এ অবস্থায় সরেজমিন তদন্ত করে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটা বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন খোদেজা আক্তার।
এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

