দিনাজপুর প্রতিনিধি:
ভুয়া ইঞ্জিনিয়ার, টেকনিশিয়ান ও ড্রাইভার পরিচয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল ফোন টাওয়ারের পাওয়ার হাউজে ডাকাতির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের অভিযোগে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের চার সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে দিনাজপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম, ভুয়া পরিচয়পত্র, মোবাইল ফোন, সিম কার্ড এবং একটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে দিনাজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সুমন রঞ্জন সরকার এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল দিনাজপুর শহরের বাহাদুর বাজার স্টেশন রোড এলাকার হোটেল রাজ-এর তৃতীয় তলার ৩০৬ নম্বর কক্ষে অভিযান চালায়। সেখানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্র ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতিসহ তিনজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে অভিযানের সময় দলের আরও দুই সদস্য কৌশলে পালিয়ে যায়। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার জঙ্গল মুকুন্দপুর গ্রামের মজলিস শেখের ছেলে সোহানুল ইসলাম (৪০), ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুরা পশ্চিম ইলিশা এলাকার আব্দুল গণির ছেলে মোহাম্মদ খলিলুর রহমান খলিল (৩০), গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার মুসুরিয়া গ্রামের মহানন্দ বালার ছেলে বরুণ বালা (৪৩) এবং রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মুরাদপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে দুলাল মিয়া (৪০)।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন রঞ্জন সরকার জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে মোবাইল ফোন টাওয়ারের পাওয়ার হাউজে থাকা ব্যাটারি ও অন্যান্য মূল্যবান সরঞ্জাম ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। তারা সাধারণ মানুষের সন্দেহ এড়াতে বিভিন্ন কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ার, টেকনিশিয়ান ও ড্রাইভার পরিচয় ব্যবহার করত। এ জন্য তারা ভুয়া পরিচয়পত্রও বহন করত।
ডিবি পুলিশের অভিযানে তাদের কাছ থেকে একটি ১২ ভোল্ট কর্ডলেস ড্রিল মেশিন, দুটি ২০ ভোল্ট কর্ডলেস অ্যাঙ্গেল গ্রাইন্ডার, বিভিন্ন ধরনের মেটাল কাটার, বড় স্ক্রু-ড্রাইভার, টেস্টার, এল-কি সেট, স্কেল লেস তালা, লিথিয়াম ব্যাটারি চার্জার, লোহার পাইপ, বিভিন্ন আকারের ৬৭টি চাবি, ১০টি চাবির থোকা, ইউটিলিটি নাইফ, বিভিন্ন গ্রিল কাটার ব্লেড, স্ক্রু-ড্রাইভার বিট, একটি প্রতিষ্ঠানের ভুয়া পরিচয়পত্র, একাধিক মোবাইল ফোন, সিম কার্ড এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, চুরি, প্রতারণা ও মারামারিসহ পাঁচ থেকে আটটি মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের সদস্য হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে দাবি পুলিশের।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তাদের কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন মোবাইল টাওয়ারকে লক্ষ্য করে পরিচালিত এ চক্রের সঙ্গে বৃহত্তর কোনো সংঘবদ্ধ বা আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত করছে ডিবি পুলিশ। তিনি আরও জানান, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

