স্ত্রী ইকরাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া (যাহের আলভী)-কে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন ২০২৬) রিমান্ড শেষে তাঁকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত এই আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আবজাল হোসাইন মৃধা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আইনজীবী আবজাল হোসাইন মৃধা জানান, আজ আদালতে যাহের আলভীর পক্ষে কোনো জামিনের আবেদন করা হয়নি। ফলে রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত তাঁকে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে গত ২৪ জুন দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের পর যাহের আলভীকে ডিবি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ড শেষে আজ তাঁকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) মিরপুর বিভাগের পরিদর্শক মো. আবদুল মালেক। তিনি আসামিকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটকে রাখার লিখিত আবেদন জানান।
আদালতে দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আসামি যাহের আলভীর কাছ থেকে স্ত্রীর আত্মহত্যার নেপথ্যের কারণ ও মামলার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা মামলার সুষ্ঠু তদন্তে বেশ সহায়ক হবে। এছাড়া প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সাথে আসামির সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। যেহেতু তদন্ত এখনো চলমান, তাই আসামি জামিনে মুক্ত হলে তদন্ত ব্যাহত হতে পারে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে যাহের আলভীর স্ত্রী ইকরার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার। ওই রাতেই পল্লবী থানায় মামলা দায়ের। ঘটনার সময় আলভী নেপালে ছিলেন এবং ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে স্ত্রীর আত্মহত্যার খবর জানান।
০৪ জুন ২০২৬: মামলায় যাহের আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাঁকে জামিন দেন।
১৮ জুন ২০২৬: দীর্ঘ দিন আত্মগোপনে থাকার পর যাহের আলভী ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠান।
২১ জুন ২০২৬: পুলিশ আলভীকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে।
২৪ জুন ২০২৬: আদালত শুনানি শেষে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১০ সালে অভিনেতা যাহের আলভী ও ইকরার বিয়ে হয়। তাঁদের ১২ বছরের সংসারে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। ইকরার বাবা কবির হায়াত খানের দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ চলছিল। আলভী ও তাঁর পরিবার বিভিন্ন সময়ে ইকরার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাত। এই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুর ডিওএইচএসের বাসায় সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন ইকরা। এই প্ররোচনার দায়েই যাহের আলভীকে প্রধান আসামি করে মামলাটি চালানো হচ্ছে।

