আজ ৩০শে জুন। গত বছরের (২০২৪) ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের অন্যতম পরিচিত মুখ, রাজপথের লড়াকু সৈনিক এবং ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর অন্যতম কেন্দ্রীয় সংগঠক শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির জন্মদিন।
দেশের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অসামান্য অবদান রাখা এবং পরবর্তীতে ফ্যাসিবাদের দোসরদের হাতে নৃশংসভাবে শহীদ হওয়া এই তরুণের জন্মদিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশজুড়ে সর্বস্তরের মানুষ তাঁকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছেন।
তিনি ছিলেন সেইসব অকুতোভয় তরুণদের একজন, যাঁরা নিজের জীবনের পরোয়া না করে ফ্যাসিবাদের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করতে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছিলেন।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শরীফ ওসমান বিন হাদি টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া—সর্বত্র শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে আন্দোলনের স্পিরিট ধরে রাখতে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সুরক্ষায় গঠিত ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর অন্যতম প্রধান সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
তিনি শুধু একজন সংগঠকই ছিলেন না, বরং সামাজিক ও রাজনৈতিক যেকোনো সংকটে অবদমিত মানুষের পক্ষে কথা বলার এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ছিলেন। ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও প্রতিবাদী কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণ সমাজকে জাগ্রত রাখতে তিনি আমৃত্যু কাজ করে গেছেন।
জুলাই বিপ্লবের পর স্বৈরাচারের পতন ঘটলেও ফ্যাসিবাদের দোসর ও কাউন্টার-রেভোলিউশনারি চক্রের হাত থেকে রেহাই পাননি এই দেশপ্রেমিক তরুণ। গত নভেম্বরে রাজধানী ঢাকায় ফ্যাসিবাদের অবশিষ্টাংশ ও উগ্রপন্থীদের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর এই অকাল শাহাদাত পুরো বাংলাদেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারসহ দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিক এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল।
আজ তাঁর জন্মদিনে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্মরণ সভা, দোয়া মাহফিল ও এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম তাঁর পূর্বের বিভিন্ন সাহসী বক্তব্য ও ছবি শেয়ার করে লিখছেন, “শরীফ ভাই, আপনি আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু আপনার জ্বালিয়ে যাওয়া ইনকিলাবের মশাল আজ কোটি তরুণের হাতে।”
শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির এই জন্মদিনে দেশবাসীর একটাই দাবি—তাঁকে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে, সেই খুনিদের যেন অতি দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয়, যেন শহীদ হাদির আত্মত্যাগ বৃথা না যায়। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে তাঁর নাম শ্রদ্ধার সাথে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

