দেশের বাজারে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের সাথে সংগতি রেখে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বড় অঙ্কে সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
গতকাল সোমবার ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানোর পর, আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন ২০২৬) আরও ৩ হাজার ৩২৪ টাকা হ্রাস করার ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। ফলে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দাম ভরিতে মোট ৬ হাজার ৫৯০ টাকা কমল।
আজ সকালে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ করা হয়। নতুন এই দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।
বাজুসের সংশোধিত ঘোষণা অনুযায়ী, স্থানীয় জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখন থেকে ভ্যাটসহ নিম্নলিখিত মূল্যে স্বর্ণালঙ্কার কেনা যাবে:
২২ ক্যারেট (প্রতি ভরি): ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা (পূর্ব মূল্য ছিল ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা)।
পরবর্তী সিদ্ধান্ত বা নতুন কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত দেশের সমস্ত জুয়েলারি বা অলঙ্কার বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে এই নতুন দাম কঠোরভাবে বলবৎ থাকবে।
বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেট বা পাইকারি বাজারে অলঙ্কার তৈরির মূল কাঁচামাল ‘তেজাবি স্বর্ণের’ (পিওর গোল্ড) সরবরাহ বাড়ায় এবং এর দাম উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সার্বিক বাজার পরিস্থিতি, দেশীয় অর্থনীতি ও সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনা করে ভ্যাটসহ স্বর্ণের এই নতুন দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুস বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, বাজুসের নির্ধারিত এই বিক্রয়মূল্যের সাথে ইতিমধ্যেই সরকারি ভ্যাট যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ফলে জুয়েলারি মালিকেরা গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদা করে বা অতিরিক্ত কোনো ভ্যাট আদায় করতে পারবেন না। তবে অলঙ্কারের শৈল্পিক ডিজাইন ও গড়ন অনুযায়ী জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব নিয়ম মেনে আলাদাভাবে ‘মজুরি’ (Making Charge) যুক্ত করতে পারবেন।
আজকের এই নতুন সমন্বয়ের মাধ্যমে চলতি ২০২৬ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ড সর্বোচ্চ ৮৪ বার দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কম-বেশি করা হলো। বছরজুড়ে বৈশ্বিক ভূরাজনীতি, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও তেজাবি স্বর্ণের সংকটের কারণে বাজুসকে ঘন ঘন এই মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই ৮৪ বারের মধ্যে:
দাম বাড়ানো হয়েছে: ৪১ দফা
দাম কমানো হয়েছে: ৪২ দফা
ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে: ১ দফা
বাজুসের এই উপর্যুপরি দাম কমানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। তাদের মতে, কোরবানির ঈদের পরবর্তী বিয়ের মৌসুমে দামের এই বড় পতন অলঙ্কার তৈরিতে স্বস্তি নিয়ে আসবে।

