খাদিমুল সরদার, বেরোবি প্রতিনিধি:
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) পদোন্নতির দাবিতে শুরু হওয়া অবস্থান কর্মসূচি রাতেও চালিয়ে যাচ্ছেন পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তারা।
সোমবার (২৯ জুন) সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ কর্মসূচি শুরু করেন তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনরত কর্মকর্তারা বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব। প্রয়োজনে সারারাত এখানেই থাকব। আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে হবে। আগামীকাল সিন্ডিকেট সভা কীভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সেটিও আমরা দেখব। আমাদের গায়ের ওপর দিয়ে সিন্ডিকেটে যেতে হবে।
গণিত বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার আনোয়ার হোসেন বলেন, সর্বশেষ কর্মবিরতির পর ৯ জুন খুদেবার্তার মাধ্যমে জানানো হয়েছিল যে পদোন্নতি বোর্ড অনুষ্ঠিত হবে। পরে ১৬ জুন বোর্ডের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও উপাচার্যের বিদেশ সফরের কারণে তা স্থগিত করা হয়। এরপর বলা হয়, তিনি বিদেশ থেকে ফিরে ২৮ জুন বোর্ড করবেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন হয়নি।
একাডেমিক শাখার সহকারী কম্পিউটার প্রোগ্রামার মনজুরুল ইসলাম বলেন, এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ বার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। নিয়ম অনুযায়ী আবেদনও করেছি। কিন্তু দীর্ঘদিনেও আমাদের পদোন্নতির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বারবার পদোন্নতি বোর্ড আয়োজনের ক্ষেত্রে গড়িমসি করছে। এর আগে আমরা কর্মবিরতি পালন করেছিলাম। তখন উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করি। ২৮ জুন বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সেটি হয়নি। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখানেই অবস্থান করব।
এর আগে রোববার (২৮ জুন) নির্ধারিত পদোন্নতি বোর্ড অনুষ্ঠিত না হওয়ায় চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী বলেন, “শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে নিষেধাজ্ঞা দেয়া আছে যেনো বর্তমানে নিয়োগ বন্ধ রাখা হয়। শুধু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বাংলাদেশের আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে আমরা যতটা সম্ভব করার চেষ্টা করবো। নিষেধাজ্ঞা না হলে পদোন্নতি ঈদের আগেই হয়ে যেতো। সচিবালয়ে দেখা করে এসেছি। তারা বলেছেন, “আর কয়েকটা দিন অপেক্ষা করেন। জুলাই – জুন বাজেট নিয়ে এমপি মহোদয় ব্যস্ত আছে। তাদের সাথে কথা বলে পরবর্তীতে জানানো হবে।” এখানে কেউ কারো প্রতিপক্ষ না। আমি যদি না চাই, তাহলে ডেট দিলাম কেনো! ডেট টা তো শুধু পদোন্নতির জন্য না, নতুন নিয়োগের জন্যেও ডেট দেয়া হয়েছিল। আগামীকাল সিন্ডিকেট হবে আমাদের বাজেটের বিষয়ে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এডিশনাল সেক্রেটারি আসবে, তাদের সাথেও বিষয়টা নিয়ে কথা বলব।”

