বর্তমান শিশুদের দৈনন্দিন জীবনের একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে স্মার্টফোন । অনলাইন ক্লাস, ভিডিও দেখা, গেম কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম,সব মিলিয়ে অনেক শিশুই দিনের বড় একটি সময় মোবাইলের পর্দার সামনে কাটাচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার শিশুর শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ছোটবেলা থেকেই মোবাইল ব্যবহারে সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
সন্তানকে সারাদিন মোবাইল ব্যবহার করতে না দিয়ে একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে দিন। পড়াশোনা, খেলাধুলা ও বিশ্রামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিদিন কতক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহার করবে তা পরিবার থেকেই নির্ধারণ করা উচিত।
শিশুরা বড়দের অনুকরণ করে। তাই অভিভাবক যদি সবসময় মোবাইলে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে সন্তানও একই অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে। পরিবারের সবাই মিলে নির্দিষ্ট সময় ‘মোবাইলমুক্ত’ সময় কাটানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।
মাঠে খেলাধুলা, ছবি আঁকা, গান শেখা কিংবা গল্পের বই পড়ার মতো কার্যক্রমে শিশুদের যুক্ত করলে তারা স্বাভাবিকভাবে মোবাইলের প্রতি কম আকৃষ্ট হবে। বাস্তব জীবনের আনন্দ ভার্চুয়াল জগতের নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করে।
অনেক পরিবারে শিশুকে খাওয়ানোর সময় মোবাইল দেখানো হয়। এটি দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর অভ্যাস তৈরি করতে পারে। খাবারের সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পরিবেশ তৈরি করা ভালো।
রাতে ঘুমানোর আগে মোবাইল ব্যবহার করলে শিশুর ঘুমের মান নষ্ট হতে পারে। তাই শোবার অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল সরিয়ে রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
শিশু একাকী বোধ করলে অনেক সময় মোবাইলেই বিনোদন খুঁজে নেয়। তাই প্রতিদিন কিছু সময় তার সঙ্গে গল্প করা, হাঁটতে যাওয়া বা একসঙ্গে খেলাধুলা করলে মোবাইলের প্রতি নির্ভরতা কমে।
প্রয়োজনে মোবাইল ব্যবহার করতে হলেও বয়স উপযোগী শিক্ষামূলক ভিডিও, বই বা অ্যাপ বেছে দেওয়া উচিত। পাশাপাশি অভিভাবকদের নিয়মিত নজর রাখা প্রয়োজন, শিশু কী ধরনের কনটেন্ট দেখছে।
হঠাৎ করে মোবাইল কেড়ে নেওয়া বা বকাঝকা না করে ধীরে ধীরে নিয়ম তৈরি করুন। কেন সীমিত সময় মোবাইল ব্যবহার করা প্রয়োজন, তা শিশুকে সহজ ভাষায় বোঝালে সে নিয়ম মেনে চলতে আগ্রহী হবে।
পরিবারে একটি সাধারণ নিয়ম থাকতে পারে—খাবারের টেবিলে মোবাইল নয়, ঘুমানোর আগে মোবাইল নয়, বা সপ্তাহে একটি দিন পরিবারের সঙ্গে প্রযুক্তিমুক্ত সময় কাটানো। এতে শিশু একা নয়, পরিবারের সবাই একই নিয়ম অনুসরণ করবে।
যদি দেখা যায়, মোবাইল না পেলে শিশু অতিরিক্ত রাগ করছে, পড়াশোনায় মনোযোগ হারাচ্ছে, ঘুম কমে যাচ্ছে, বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা কমে গেছে বা দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে, তাহলে শিশু বিশেষজ্ঞ বা শিশু মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মোবাইল প্রযুক্তি আজকের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই লক্ষ্য হওয়া উচিত শিশুদের প্রযুক্তি থেকে পুরোপুরি দূরে রাখা নয়, বরং সুষম ও দায়িত্বশীল ব্যবহার শেখানো। অভিভাবকের সচেতনতা, সময় দেওয়া এবং পারিবারিক নিয়মই শিশুদের সুস্থ ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তুলতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

