শিশুমৃত্যুর ঘটনায় আলোচনায় থাকা আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স পুনর্বহালের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেছেন, মৃত শিশুদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে এক মাসের মধ্যে হাসপাতালটির লাইসেন্স ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।এই তথ্য জানিয়েছেন জনপ্রিয় শিল্পী, সাংবাদিক ও লেখক আমিরুল মোমেনীন মানিক। মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।ফেসবুক পোস্টে আমিরুল মোমেনীন মানিক লিখেছেন, হাসপাতালের লাইসেন্স পুনর্বহালের ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। প্রথমত, নিহত শিশুদের পরিবারের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, যাদের অবহেলা বা দায়িত্বহীনতার কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। এই দুটি শর্ত পূরণ হলেই হাসপাতালটির লাইসেন্স পুনর্বহালের প্রক্রিয়া এগোতে পারে।
তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে অযথা বন্ধ রাখা নয়, বরং জনগণের নিরাপত্তা, চিকিৎসা সেবার মান এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা। তাই সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, তাহলে লাইসেন্স ফেরানোর বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
সম্প্রতি আদ-দ্বীন হাসপাতালের নবজাতক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তদন্ত শুরু করে এবং হাসপাতালের কার্যক্রম ও লাইসেন্স নিয়ে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, চিকিৎসাসেবার মান ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে হাসপাতালটির কার্যক্রম পুনরায় চালুর সুযোগ দেওয়া উচিত।
তবে এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত প্রজ্ঞাপন বা সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি। ফলে আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স পুনর্বহালের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে সংশ্লিষ্ট সরকারি ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

