বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতির অন্যতম সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব চিত্রশিল্পী, পাপেট শিল্পের অগ্রদূত মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। পরিবারের সদস্যরা তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। ২০২৪ সালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হলেও পরে কিছুটা সুস্থ হয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি নিউমোনিয়াজনিত সংক্রমণে তাঁর শারীরিক অবস্থার আবারও অবনতি ঘটে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তিনি নিবিড় চিকিৎসাধীন ছিলেন।
মুস্তাফা মনোয়ারকে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জগতে সবাই ভালোবেসে ‘পাপেট ম্যান’ নামে চিনতেন। পাপেট শিল্পকে জনপ্রিয় করে তোলার পাশাপাশি তিনি চিত্রকলা, টেলিভিশন, নাটক এবং শিশুদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। তাঁর সৃষ্ট চরিত্র ও অনুষ্ঠান বাংলাদেশের কয়েকটি প্রজন্মের শৈশবকে সমৃদ্ধ করেছে।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান। কলকাতা গভর্নমেন্ট কলেজ অব আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট থেকে শিল্পকলায় শিক্ষা গ্রহণের পর তিনি শিক্ষকতা, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ সালে শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি “একুশে পদক” লাভ করেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থী শিবিরে পাপেট শোর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। পরবর্তীকালে টেলিভিশনে তাঁর নির্মিত পাপেট অনুষ্ঠান এবং নাট্য প্রযোজনাগুলো দর্শকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিল্পী ও বিশিষ্টজনরা তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেছেন, তাঁর সৃষ্টিশীল অবদান বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে

