গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বেড়ে গেলে শরীরের স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে। দীর্ঘ সময় রোদে থাকা, পর্যাপ্ত পানি না পান করা বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের কারণে হিট এক্সহসশন থেকে হিটস্ট্রোকে রূপ নিতে পারে। হিটস্ট্রোক একটি জরুরি চিকিৎসাজনিত অবস্থা এবং দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে।
হিটস্ট্রোকের আগে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে
1. অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
শুরুর দিকে শরীর নিজেকে ঠান্ডা রাখতে প্রচুর ঘাম ঝরায়। তবে অবস্থা গুরুতর হলে কিছু ক্ষেত্রে ঘাম কমে যেতে পারে বা বন্ধও হয়ে যেতে পারে।
২. মাথা ঘোরা বা ঝিমঝিম ভাব
গরমে দীর্ঘ সময় থাকার ফলে রক্তচাপ কমে যেতে পারে, যার কারণে মাথা ঘোরা বা ভারসাম্য হারানোর অনুভূতি হতে পারে।
৩. অস্বাভাবিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরও যদি শরীর ভেঙে যায় বা কাজ করার শক্তি না থাকে, তাহলে এটি তাপজনিত অসুস্থতার লক্ষণ হতে পারে।
৪. তীব্র তৃষ্ণা
শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের হয়ে গেলে বারবার তৃষ্ণা লাগে এবং মুখ শুকিয়ে যেতে পারে।
৫. বমি বমি ভাব বা বমি
শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে অনেকের বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে।
৬. পেশিতে টান ধরা
বিশেষ করে হাত, পা বা পেটের পেশিতে ব্যথা বা টান লাগা ডিহাইড্রেশন ও লবণের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার লক্ষণ হতে পারে।
৭. হৃদস্পন্দন দ্রুত হওয়া
শরীর ঠান্ডা রাখতে হৃদপিণ্ডকে বেশি কাজ করতে হয়, ফলে হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যেতে পারে।
৮. তীব্র মাথাব্যথা
অস্বাভাবিক মাথাব্যথা, বিশেষ করে গরমে দীর্ঘ সময় থাকার পর হলে সতর্ক হওয়া উচিত।
৯. শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া
শরীর অস্বাভাবিক গরম অনুভূত হতে পারে এবং জ্বরের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
১০. বিভ্রান্তি বা অস্বাভাবিক আচরণ
হিটস্ট্রোকের দিকে অগ্রসর হলে ব্যক্তি অসংলগ্ন কথা বলতে পারেন, বিভ্রান্ত হয়ে যেতে পারেন বা স্বাভাবিকভাবে চিন্তা করতে সমস্যায় পড়তে পারেন।
এসব লক্ষণ দেখা দিলে কী করবেন?
- দ্রুত ছায়াযুক্ত বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে চলে যান।
- আঁটসাঁট পোশাক ঢিলা করুন।
- ধীরে ধীরে ঠান্ডা পানি পান করুন (যদি ব্যক্তি সচেতন থাকেন এবং গিলতে পারেন)।
- ভেজা তোয়ালে বা ঠান্ডা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিন।
- ঘাড়, বগল ও কুঁচকির মতো স্থানে ঠান্ডা সেঁক দিন।
- শারীরিক পরিশ্রম বন্ধ করে বিশ্রাম নিন।
কখন জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন?
নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন—
- শরীরের তাপমাত্রা খুব বেশি বেড়ে যাওয়া
- অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
- খিঁচুনি
- কথা জড়িয়ে যাওয়া
- শ্বাসকষ্ট
- ব্যক্তি পানি পান করতে না পারা বা বারবার বমি হওয়া
কীভাবে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি কমাবেন?
- প্রচুর পানি পান করুন।
- দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে অপ্রয়োজনে রোদে না থাকুন।
- হালকা রঙের, ঢিলেঢালা সুতি পোশাক পরুন।
- বাইরে গেলে ছাতা বা টুপি ব্যবহার করুন।
- শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্ক থাকুন।

