কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় নাশতা করার পর ভুলবশত নিজেদের দেড় থেকে দুই বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানকে ফেলে চলে গেছে একটি বিদেশি পরিবার। শিশুটিকে ফিরে পেতে এবং তার পরিবারের সন্ধান চেয়ে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছে।
আজ শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) সকাল সাড়ে ৮টায় পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড সংলগ্ন মোস্তফাপুর এলাকার ‘জাইতুন রেস্তোরাঁয়’ এই ব্যতিক্রমী ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।
জাইতুন রেস্তোরাঁর সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিদেশি নাগরিক বা প্রবাসী ওই পরিবারটি প্রায় ১৫ জন সদস্য নিয়ে দুটি বিলাসবহুল গাড়িতে করে রেস্তোরাঁটিতে আসেন। তারা সবাই মিলে এক টেবিলে বসে সকালের নাশতা করেন এবং দীর্ঘ সময় বেশ আনন্দঘন পরিবেশে গল্প-আড্ডায় মেতে ছিলেন। এরপর নাশতা শেষ করে বিল পরিশোধের পর সবাই তাড়াহুড়ো করে গাড়িতে ওঠার সময় ভুলক্রমে বাচ্চাটিকে রেস্তোরাঁর ভেতরে একটি চেয়ারে ফেলেই চলে যান।
জাইতুন রেস্তোরাঁর স্বত্বাধিকারী লুৎফুর রহমান রিপন জানান, পরিবারটি চলে যাওয়ার বেশ কিছুক্ষণ পর শিশুটিকে একা টেবিলে বসে থাকতে দেখে রেস্তোরাঁর স্টাফরা। চারদিকে খুঁজেও তার বাবা-মাকে না পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বুঝতে পারেন তারা।
লুৎফুর রহমান রিপন বলেন: “বাচ্চাটির বয়স আনুমানিক দেড় থেকে দুই বছর। সে এখনো স্পষ্ট কোনো কথা বলতে পারে না এবং নিজের নাম বা বাবা-মায়ের নামও বলতে পারছে না। আমরা শিশুটিকে পরম যত্নে রেস্তোরাঁতেই রেখেছি এবং এ বিষয়ে ইতিমধ্যে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অবহিত করেছি। পরিবারটিকে খুঁজে পেতে আমরা সবার আন্তরিক সহযোগিতা চাইছি।”
ঘটনার পর পরই রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ স্থানীয় সদর দক্ষিণ থানায় বিষয়টি জানালে পুলিশ শিশুটির নিরাপত্তা ও তার পরিবারকে শনাক্ত করতে কাজ শুরু করেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সদর দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয়রা ধারণা করছেন, দুটি আলাদা গাড়িতে পরিবারটির সদস্যরা বিভক্ত হয়ে ওঠার কারণে হয়তো এক গাড়ির সদস্যরা ভেবেছেন শিশুটি অন্য গাড়িতে আছে; আর এই ভুল বোঝাবুঝির কারণেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে। শিশুটির ছবি ও সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্যে কুমিল্লা ও আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে দ্রুত তার অভিভাবকদের সন্ধান মেলে।

