দেশে হাম ও হামের উপসর্গের প্রাদুর্ভাব থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানির সংখ্যা ৭০০-এর ঘর পেরিয়ে দাঁড়িয়েছে ৭০২ জনে।
আজ শুক্রবার (২৬ জুন ২০২৬) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৫ ২৫ জুন) সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪ জন শিশু (তবে এই ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি)।
একদিনে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নতুন করে ১০৭ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ল্যাব টেস্ট ছাড়াই আরও ৮৬৯ জন শিশুর মধ্যে হামের তীব্র উপসর্গ পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত সাড়ে তিন মাসে দেশে হামের ভয়াবহতা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে:
ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হওয়া হামের কারণে এ পর্যন্ত মারা গেছে ৯৩ জন শিশু। সন্দেহজনক বা হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬০৯ জন শিশু।
নিশ্চিত ও সন্দেহজনক—উভয় মিলিয়ে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা এখন ৭০২ জনে এসে ঠেকেছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান (EPI) কর্মসূচির আওতায় হাম-রুবেলার (MR) প্রতিষেধক টিকা নিশ্চিত করার জন্য অভিভাবকদের পুনরায় তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে শিশুর শরীরে তীব্র জ্বর ও লালচে দানা বা র্যাশ দেখা দিলে কোনো প্রকার অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

