দেশে হাম ও হামের উপসর্গের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে এই ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৯৪৫ জন শিশু।
আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত এক জরুরি হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে:
৯ জন শিশু (তবে এই ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি)। ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে ৫২ জন শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে আরও ৮৯৩ জনের মধ্যে। সব মিলিয়ে একদিনে আক্রান্ত ৯৪৫ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৮৬০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯০৬ জন।
চলতি বছরের গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা অতীতের অনেক রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৬০৫ জন এবং ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৩ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। ফলে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯৮ জনে।
গত সাড়ে তিন মাসে দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৬ হাজার ৬৫৩ জনে। যার মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৪৪২ জনের শরীরে। এই সময়ের মধ্যে তীব্র জটিলতা নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৮০ হাজার ৪৯৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছে।
হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে এবং বায়ুবাহিত রোগ, যা মূলত শিশুদের বেশি আক্রান্ত করে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁরা দেশের সকল শিশুকে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির (EPI) আওতায় হামের প্রতিষেধক বা এমআর (MR) টিকা সময়মতো নিশ্চিত করার জোর তাগিদ দিয়েছেন।
পাশাপাশি, কোনো শিশুর শরীরে তীব্র জ্বর, শরীর ম্যাজম্যাজ করা, চোখ লাল হওয়া এবং ত্বকে লালচে দানা বা র্যাশ (Rash) দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতাল বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

