অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের একাধিক ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের একযোগে পদত্যাগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম বদরুদ্দোজা বাদল।
বুধবার (২৪ জুন) সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর সাধারণত অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত আইন কর্মকর্তারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। কিন্তু সম্প্রতি পদত্যাগকারী কর্মকর্তারা নতুন সরকারের অধীনে কয়েক মাস দায়িত্ব পালন করেছেন, সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন এবং দায়িত্বে বহাল থেকেছেন।
তার দাবি, যদি তাদের নীতিগত আপত্তি থেকেই থাকে, তাহলে সরকার গঠনের পরপরই পদত্যাগ করা উচিত ছিল। কয়েক মাস দায়িত্ব পালনের পর রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে পদত্যাগ করাকে তিনি “রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি” হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, গত কয়েক মাসে পদত্যাগকারী আইন কর্মকর্তারা রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় যথাযথ ভূমিকা পালন করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের বিভিন্ন মামলা ও নথিপত্র পর্যালোচনার আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ইসলামিক লয়ার্স কাউন্সিলের সঙ্গে সম্পৃক্ত সাতজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদত্যাগপত্র জমা দেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হওয়া এবং সুপ্রিম কোর্ট-সংক্রান্ত কয়েকটি অধ্যাদেশ বাতিলের প্রতিবাদে তারা এ সিদ্ধান্ত নেন।
এ প্রসঙ্গে বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, সরকারের কাছ থেকে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা গ্রহণের পর হঠাৎ করে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি প্রশ্নের জন্ম দেয়। তার মতে, তারা দায়িত্ব পালনের সময় সরকারের পক্ষে কাজ করেছেন নাকি ভিন্ন কোনো ভূমিকা পালন করেছেন, সেটিও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে সম্ভাব্য রদবদলের সঙ্গে এই পদত্যাগের সম্পর্ক রয়েছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি মূলত আইন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। তবে পদত্যাগের সময় ও প্রেক্ষাপট নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

