পাইকগাছা প্রতিনিধি:
পাইকগাছার কপিলমুনি ইউনিয়নের সলুয়া গ্রামে এক অসহায় বৃদ্ধাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তের হোলি খেলায় মেতে উঠেছে দুর্ধর্ষ দুর্বৃত্তরা বুধবার দিবাগত রাতে মৃত রঞ্জন ঘোষের স্ত্রী সুমিত্রা ঘোষ (৭০) নামের এক বৃদ্ধার ওপর নেমে আসে এই পৈশাচিক বর্বরতা। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে অজ্ঞাতপরিচয় ঘাতকেরা ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত বা অসতর্ক ওই বৃদ্ধার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। আহত অবস্থায় স্বজনরা প্রথমে তাঁকে দ্রুত তালা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসকরা তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাৎক্ষণিক খুলনায় স্থানান্তর করেন।
আহতের বড় ছেলে নারায়ণ ঘোষ জানান, হামলাকারীরা অত্যন্ত নৃশংসভাবে তাঁর মায়ের মাথায় আঘাত করেছে।ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মাথার ভেতরের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, বৃদ্ধা সুমিত্রা ঘোষের অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়ানের সলুয়া গ্রামের এই সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারটির ওপর এটিই প্রথম আঘাত নয়। এর আগে চলতি বছরের ২৮ মার্চ রাতে এই নারায়ণ ঘোষেরই বাড়িতে একদল দুর্ধর্ষ ডাকাত হানা দিয়েছিল। সে সময় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায় ডাকাত দল
সচেতন মহলের প্রশ্ন—মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে একই পরিবারে কেন বারবার এমন টার্গেটেড হামলা? পূর্বের ডাকাতির ঘটনার যদি সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা যেত, তবে কি আজ একজন ৭০ বছরের বৃদ্ধাকে এভাবে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়াতে হতো? পরপর এসব লোমহর্ষক ঘটনায় পুরো পরিবারটি এখন চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
এক বৃদ্ধার ওপর এমন বর্বরোচিত ও নৃশংস হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের মনে এখন একটিই প্রশ্ন—সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা কোথায়? প্রকাশ্য দিবালোকে বা রাতের আঁধারে একের পর এক অপরাধ ঘটে চললেও অপরাধীরা কেন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে?
এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজ এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নেপথ্যের কুশীলব এবং হামলাকারী খুনিদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জন্য জোর দাবি জানান।

