বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে রোববার (২১ জুন) মালয়েশিয়া গেছেন। সফর শেষে তার চীন সফরের কর্মসূচিও রয়েছে। এই সফরকে ঘিরে ভারতীয় গণমাধ্যম ও নীতিনির্ধারণী মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, সাধারণত বাংলাদেশের নতুন সরকারপ্রধানরা প্রথম বিদেশ সফরে ভারতকে অগ্রাধিকার দিলেও এবার মালয়েশিয়া ও চীনকে বেছে নেওয়া ভিন্ন বার্তা বহন করছে। বিশেষ করে বিদেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই সফর পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ভারতীয় মিডিয়ার পর্যবেক্ষণ
হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথম বিদেশ সফরের জন্য মালয়েশিয়া ও চীনকে বেছে নেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নতুন অগ্রাধিকার প্রতিফলিত হয়েছে। একই ধরনের মন্তব্য করেছে দ্য হিন্দুও। তাদের মতে, এটি আঞ্চলিক কূটনৈতিক ভারসাম্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিষয়টিকে একমাত্রিকভাবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না।
চীনা বিশ্লেষকের অবস্থান
চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ইনস্টিটিউটের গবেষণা বিভাগের পরিচালক চিয়ান ফেং গ্লোবাল টাইমসকে দেওয়া মন্তব্যে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় সম্পর্কের পরিবর্তনশীল বাস্তবতা রয়েছে। তার মতে, ভারতীয় মিডিয়ার একটি অংশ এখনো আঞ্চলিক রাজনীতিকে ঐতিহ্যগত প্রভাবকেন্দ্রিক দৃষ্টিতে দেখে।
তিনি আরও বলেন, চীন–বাংলাদেশ সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এটিকে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয়।
ঢাকা–মালয়েশিয়া ও চীন সফর কর্মসূচি
পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, সফরের প্রথম ধাপে মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। আলোচনায় শ্রমবাজার, বিনিয়োগ ও প্রবাসী কর্মসংস্থান ইস্যু গুরুত্ব পাবে।
এরপর সোমবার রাতে কুয়ালালামপুর থেকে চীনের উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি। চীন সফরে অবকাঠামো, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে চীনা অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশি কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই সফরগুলো দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

