সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের কৌশল চূড়ান্ত করতে সচিব কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, সচিব কমিটির পর্যবেক্ষণ, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের প্রস্তাব এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামোসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে আরও কয়েক দফা বৈঠক করা হবে। আগামী ২৪ জুন পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন পে স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার কথা রয়েছে। তবে প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগায় বর্ধিত বেতন কার্যকর হতে কয়েক মাস দেরি হতে পারে বলে জানা গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং প্রজ্ঞাপন জারি, বিধি সংশোধনসহ আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে বর্ধিত বেতন অক্টোবরের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছাতে পারে।
নতুন কাঠামোয় প্রশাসন, শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, বিচার বিভাগ এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্তর্ভুক্ত হবেন।
বর্তমানে মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় দেওয়া ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। ফলে পৃথকভাবে ওই সুবিধা আর থাকবে না।
অর্থ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, নতুন কাঠামোয় মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে বিশেষ সুবিধা বাতিল হওয়ায় কার্যকর বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে কম হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, মূল বেতন বাড়লে পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং অবসর-পরবর্তী অন্যান্য সুবিধাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে।
প্রস্তাবিত বাজেটে বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে বড় অঙ্কের বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার একটি অংশ নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।

