স্টাফ রিপোর্টার:
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে সামিউল মল্লিক (৯) নামের এক শিশু। বাড়ি থেকে বাইসাইকেল নিয়ে বের হওয়ার পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এদিকে নিখোঁজের একদিন পর স্বজনদের ইমো নম্বরে বার্তা পাঠিয়ে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিখোঁজ সামিউল মল্লিক সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মিরাজুল মল্লিকের ছেলে। পরিবারের একমাত্র সন্তান হওয়ায় তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৫ জুন) সকাল ৭টার দিকে সামিউল একটি বাইসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে সে আর বাড়িতে ফেরেনি। প্রথমে পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেছিলেন, সে হয়তো পরিচিত কারও বাড়িতে বা আশপাশের এলাকায় গেছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও তার কোনো খোঁজ না পাওয়ায় তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি চালানো হয়। স্থানীয় মসজিদের মাইকিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রচার এবং বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়েও এখন পর্যন্ত শিশুটির কোনো সন্ধান মেলেনি।
পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ১০টার দিকে সামিউলের চাচাতো চাচা রবিন মল্লিকের ব্যবহৃত ইমো নম্বরে একটি বার্তা আসে। ওই বার্তায় সামিউলকে ফেরত পেতে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে বার্তাটি কারা পাঠিয়েছে বা এর পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সামিউলের স্বজনরা জানান, শিশুটির সন্ধান পেতে তারা সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন। কেউ শিশুটির সন্ধান পেলে দ্রুত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধও জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই ধারণা করছেন, এটি পরিকল্পিত অপহরণের ঘটনা হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ্ বলেন, “শিশু নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তাকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার এবং ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”
এদিকে তিন দিন পেরিয়ে গেলেও সামিউলের কোনো সন্ধান না মেলায় পরিবার ও স্বজনদের উৎকণ্ঠা আরও বাড়ছে। তারা দ্রুত শিশুটিকে সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় ফিরে পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন।

