মো:সোহেল রানা ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা:
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ৭নং চিলারং ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মহাদেবপুর গ্রাম থেকে মহাদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তা পাকাকরণ কাজে রাবিশের পরিবর্তে মাটি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। তাও আবার গভীর রাতে মাটি ফেলা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কয়েকটি ট্রাক আটক করলে চালকেরা ট্রাক নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার(১৫ জুন)গভীর রাতে কয়েকটি মাহিন্দ্র ট্রাক রাস্তা নির্মাণস্থলে এসে রাবিশের পরিবর্তে মাটি ফেলতে শুরু করে। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তাদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, ট্রাকগুলো থেকে রাস্তা নির্মাণের উপকরণ হিসেবে রাবিশের বদলে মাটি ফেলা হচ্ছে।
এ সময় স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই কয়েকজন চালক ট্রাক নিয়ে সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয়রা তাদের বাধা দিয়ে ৩টি ট্রাক আটক করতে সক্ষম হন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, “মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন রাতের আঁধারে মাটি ফেলা হয়েছে। যদি কাজ সঠিক হতো তাহলে দিনের বেলায়ই করা যেত। রাস্তার মান নিয়ে আমাদের শঙ্কা রয়েছে।”
মাজেদুল ইসলাম নামে একজন স্থানীয় জানান, “রাস্তা ফিনিসিং দেয় মূলত ইটের গুড়ো দিয়ে অর্থাৎ রাবিশ দিয়ে কিন্তু এখানে তারা রাবিশের পরিবর্তে মাটি ফেলেছে যা আবর্জনা স্তূপ। এইগুলা দিয়ে কি রাস্তার কাজ হয়। এইগুলা আমরা আটকাতে যাওয়ায় ড্রাইভার গুলো পালিয়ে যাচ্ছিলো আমরা পরে এলাকাবাসী মিলে গাড়ি আটক করি।”
আরেক স্থানীয় আবুল কালাম আজাদ বলেন, “রাস্তার এই কাজটা তিনবার তিনজনের কাছে বিক্রি হয়েছে। এই রাস্তার কাজ পরিপূর্ণভাবে করা হচ্ছেনা। আজকে তারা ফিনিসিংয়ের সময় ডাব্লুবিএমের মাল ফেলার পরে তারা রাবিশ দিবে যাতে ভালো একটা ফিনিসিং হয়। অথচ এখানে তারা টলিকা টলি মাটি নিয়ে আসে ঢালতেছে। এইগুলা কোন রাবিশ নয়। মূলত কন্টাকটারের নির্দেশে রাতের অন্ধকারে রাবিশের পরিবর্তে মাটি ফেলা হচ্ছে।”স্থানীয়রা আরও বলেন, কাজের এই অনিয়মের সঙ্গে যারা জড়িত, প্রশাসনের কাছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
আটক হওয়া ট্রাকের চালক শামীম জানান, তারা মূলত লাল মিয়ার ইটভাটায় কাজ করেন। ঠিকাদার খাইরুল ইসলামের নির্দেশে তারা সেখানে মালামাল নিয়ে এসেছেন।আরেক ট্রাকচালক জানান, “আমরা মূলত ইটভাটার ম্যানেজার মজিবুলের নির্দেশে এই মাটিগুলো এখানে এনেছি।”
এ বিষয়ে ঠিকাদার খাইরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি যে রাবিশ দেখিয়ে দিয়েছিলাম, শ্রমিকরা ভুল করে অন্য রাবিশ নিয়ে এসেছে। এগুলো ফেরত নিয়ে এসে ফিনিসিং হয় এমন ভালো রাবিশ এনে সঠিকভাবে রাস্তার কাজ সম্পন্ন করা হবে।”
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মামুন বিশ্বাসের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু ভুল স্বীকার করলেই হবে না, রাস্তা নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

