দিব্যি হাসিখুশি আছেন, অথচ পরক্ষণেই মন খারাপ হয়ে গেল। কিংবা আচমকা রেগে যাওয়া, কারণে-অকারণে আবেগপ্রবণ হয়ে কেঁদে ফেলার মতো সমস্যায় অনেকেই ভুগে থাকেন। ঘন ঘন মুড সুইং বা মেজাজ পরিবর্তনের এই সমস্যাটি তীব্র হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তবে এর পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনযাপন এবং খাদ্যতালিকায় কিছু সহজ বদল এনেও মনকে নিমেষেই প্রফুল্ল ও চনমনে করে তোলা সম্ভব।
মস্তিষ্কে ডোপামিন ও সেরোটোনিনের মতো ‘হ্যাপি হরমোন’ বাড়াতে সাহায্য করে এমন কিছু খাবার এবং জীবনযাত্রার নিয়ম নিচে তুলে ধরা হলো:
১. খাদ্যতালিকায় রাখুন ‘হ্যাপি হরমোন’ বৃদ্ধিকারী খাবার
ডার্ক চকলেট: মন খারাপ দূর করার অন্যতম সেরা দাওয়াই হলো ডার্ক চকলেট। এতে থাকা ৭০ শতাংশ কোকো এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট মস্তিষ্কে সেরোটোনিন হরমোন নিঃসরণে সাহায্য করে, যা নিমেষেই মেজাজ ভালো করে দেয়।
ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার: মানসিক উদ্বেগ ও অবসাদ কাটাতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড অত্যন্ত কার্যকরী। এজন্য খাদ্যতালিকায় ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ, আমন্ড (কাঠবাদাম) এবং ফ্ল্যাক্সসিডস বা তিসির বীজ রাখতে পারেন।
অ্যান্টি-অক্সিডেন্টযুক্ত ফল: কালোজাম ও স্ট্রবেরির মতো ফলে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা মানসিক চাপ কমিয়ে মনমেজাজ ফুরফুরে রাখে।
ফার্মেন্টেড খাবার: দই এবং আচারের মতো খাবারও শরীরে সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

২. জীবনযাপনে আনুন ইতিবাচক পরিবর্তন
ডিজিটাল ডিটক্স: মন ভালো রাখার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো মোবাইল স্ক্রিনের ব্যবহার কমানো। ভুল করেও রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এবং সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল স্ক্রল করবেন না। দিনের শুরু ও শেষের কিছুটা সময় মোবাইল থেকে দূরে থাকুন।
পর্যাপ্ত ঘুম: শরীর সুস্থ ও মেজাজ চাঙা রাখতে রাতে গভীর ও পর্যাপ্ত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই।
সকালের অভ্যাস: ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন। ঘুম থেকে উঠে কিছুক্ষণ বাইরে হেঁটে আসতে পারেন কিংবা ঘরের জানালার পাশে এক কাপ চা বা কফি হাতে নিজেকে কিছুটা একান্ত সময় দিতে পারেন।
শারীরিক কসরত: সকালে নিয়ম করে কিছুক্ষণ যোগব্যায়াম, ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ কিংবা নাচানাচি করতে পারেন। এতে শরীর থেকে ‘এন্ডোর্ফিন’ হরমোন নির্গত হয়, যা আপনাকে দিনভর দারুণ এনার্জি দেবে এবং মনকে রাখবে সতেজ।

