জয়পুরহাট প্রতিনিধি:
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার হাটখোলা সীমান্তের ২৭৯ নম্বর প্রধান পিলারের ২৭ নম্বর সাব-পিলার সংলগ্ন শূন্যরেখায় পুশইনের চেষ্টা করা সেই বৃদ্ধকে আজ সোমবার আর দেখা যায়নি। স্থানীয় গ্রামবাসী ও বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার দিনভর শূন্যরেখায় অবস্থান করানোর পর রাত ৯টা ৫ মিনিটের দিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়।
সোমবার ১৫ জুন দুপুরে হাটখোলা সীমান্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শূন্যরেখায় ওই বৃদ্ধের কোনো উপস্থিতি নেই। স্থানীয়রা জানান, রোববার সকালে বিএসএফ ওই বৃদ্ধকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইন করে। গ্রামবাসীরা তাঁকে আটকে রেখে বিজিবিকে খবর দেন।
পরে গ্রামবাসীর সহায়তায় বিজিবি সদস্যরা বৃদ্ধকে পুশব্যাক করে ভারতীয় ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে পাঠিয়ে দেন। এরপর বিএসএফ সদস্যরা দফায় দফায় বৃদ্ধকে আবারও বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে গ্রামবাসী ও বিজিবি সদস্যদের সতর্ক অবস্থানের কারণে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
সন্ধ্যার পর সীমান্তের লাইট বন্ধ করে ভারতীয় কিছু লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে আবারও পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু গ্রামবাসী ও বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তাতেও সফল হতে পারেনি বিএসএফ। পরে রাত ৯টার পর বিএসএফ সদস্যরা বৃদ্ধকে নিয়ে সেখান থেকে চলে যায়।
বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানান, সীমান্তের ওপারে ভারতের জামালপুর গ্রামে তাঁদের আত্মীয়স্বজন রয়েছেন। সেখানে মথুরাপুর বিএসএফ ক্যাম্প রয়েছে। জামালপুর গ্রামের একটি বিদ্যালয়ে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষকে জড়ো করে রাখা হয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।
বিএসএফ সারাদিন চেষ্টা করেও বৃদ্ধকে আর পুশইন করতে পারেনি। সন্ধ্যার পর সীমান্তের লাইট বন্ধ করে আবারও চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু গ্রামবাসী ও বিজিবির সদস্যদের শক্ত অবস্থানের কারণে তারা সফল হয়নি। রাত ৯টার পর বিএসএফ বৃদ্ধকে গাড়িতে করে নিয়ে গেছে।”
বিজিবি সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে সীমান্তে সতর্ক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। পুশইনের যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

