জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নারী সদস্যদের পোশাক নিয়ে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। নারীদের পোশাকের স্বাধীনতা নিয়ে এমন মন্তব্যের জেরে তার প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে দাবি তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা।
রোববার (১৪ জুন) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ডাকসুর এই সদস্য তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সংসদে দেওয়া মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে সর্ব মিত্র চাকমা লেখেন, অধিবেশনে নিকাব পরিহিত নারী সংসদ সদস্যদের কটাক্ষ করে মনিরুল হক বলেন, ‘‘আপনারা লেখাপড়া করে সংসদ সদস্য হয়েছেন, দুইজনের বক্তব্য শুনলাম কিন্তু বুঝলাম না তো কারা আপনারা।’’ এমন বক্তব্যের সময় বিএনপির সংরক্ষিত আসনের অন্য সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে সেটিকে সমর্থন জানান।
ডাকসু সদস্য তার স্ট্যাটাসে বিষয়টিকে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার ওপর ‘স্পষ্ট নগ্ন হস্তক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন:
“বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেও দেখেছি, বোরকা বা হিজাব পরিহিত নারী সহপাঠীদের বিভিন্ন জায়গায় কটাক্ষ ও বাধার সম্মুখীন হতে হয়। সেই একই ধৃষ্টতা এবার মহান সংসদেও দেখা গেল। এটি দেশের কোটি কোটি বোরকা ও নিকাব পরিধানকারী নারীর জন্য চরম অবমাননাকর।”
মনিরুল হক চৌধুরীর ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, চেহারায় ধর্মীয় প্রতীক (দাড়ি-টুপি) থাকলেও নিজের ধর্মের প্রতি তিনি কতটা শ্রদ্ধাশীল, তা এই বক্তব্যেই স্পষ্ট। একটি প্রগতিশীল সমাজে মানুষ নিজ নিজ বিশ্বাস নিয়ে বাঁচবে— এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি অবিলম্বে এমপি মনিরুলকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।
সংসদে যা ঘটেছিল
রোববারের সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় ২০০১ সালের একটি সামাজিক অনুষ্ঠানের স্মৃতিচারণ করেন মনিরুল হক চৌধুরী। সেখানে জামায়াতে ইসলামীর সদস্য ও বর্তমান বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের স্ত্রীর পোশাক নিয়ে কৌতুক করেন তিনি।
মনিরুল হক বলেন, “অনুষ্ঠানে ঢোকার পর দেখি একটা কিছু হাঁটতেছে। আমি বললাম, তাহের ভাই ভাবি কই? উনি বললেন, ‘এই যে!’ তখন আমি বলি, ‘আপনি যে বদলায়ে আনেন নাই, এটা কেমনে বুঝবো?’”
তার এই মন্তব্যে সংসদের একাংশে হাসির রোল উঠলেও বিরোধী দল এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়। প্রবল আপত্তির মুখে পরবর্তীতে স্পিকার এই বিতর্কিত বক্তব্যটি সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ (প্রত্যাহার) করার নির্দেশ দেন।

