২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটে বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপের প্রতিফলন দেখা গেলেও বিচার বিভাগ ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছে মুভমেন্ট ফর ওয়ার্ল্ড এডুকেশন রাইটস (এমডব্লিউইআর)।
শনিবার (১৩ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক এনায়েত উল্লাহ শরীফ (কৌশিক) ও অ্যাডভোকেট রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী এ মন্তব্য করেন।
তারা বলেন, নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট হওয়ায় এটি নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। গত ২০ মে উপস্থাপিত ‘জাতীয় স্বপ্নবাজেট’-এর বেশ কয়েকটি সুপারিশ প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিফলিত হওয়ায় সংগঠনটি সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
সংগঠনটির মতে, চাল, গম, আলু ও পেঁয়াজসহ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎস কর হ্রাস এবং মোবাইল সিমের ওপর কর প্রত্যাহার সাধারণ ভোক্তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনবে। তবে মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর কার্যকর উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
এমডব্লিউইআর সতর্ক করে বলেছে, বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাত থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণ বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এজন্য রাজস্ব আদায় ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সংগঠনটি শিক্ষা খাতে রেকর্ড বরাদ্দকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, বরাদ্দের পাশাপাশি সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং অপচয় রোধ নিশ্চিত করা না গেলে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিচার বিভাগের মোট বরাদ্দ কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ কমে যাওয়ায় উদ্বেগ রয়েছে। মামলা জট নিরসন, আদালতের অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল কোর্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং বিচারিক কার্যক্রম আধুনিকায়নের জন্য উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানো জরুরি।
নেতৃবৃন্দের মতে, রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে বিচার বিভাগের দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন ও সংস্কার কার্যক্রমের তুলনায় বর্তমান বরাদ্দ এখনও পর্যাপ্ত নয়।

