বাধন মিয়া, মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি:
মেধা-বিজ্ঞান-উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মাগুরার মহম্মদপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে উপজেলা পর্যায়ের স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম-২০২৬। শুক্রবার (১২ জুন) উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EESS), এসইডিপি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহম্মদপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার প্রণব কুমার পোদ্দার।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও গবেষণালব্ধ প্রকল্প প্রদর্শন করে। হলরুমে স্থাপিত প্রায় ৮ থেকে ১০টি স্টলে আধুনিক প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ এবং কৃষিভিত্তিক নানা উদ্ভাবনী প্রকল্প স্থান পায়। শিক্ষার্থীদের তৈরি প্রকল্পগুলো দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
প্রধান অতিথি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী প্রদর্শনীর প্রতিটি স্টল ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি তাদের উদ্ভাবনী চিন্তার প্রশংসা করে বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু ডিগ্রি প্রদান করবে না, বরং দক্ষ ও মানবিক মানবসম্পদ গড়ে তুলবে। বর্তমান সরকার বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদমান আকিব এবং মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহম্মদ আশরাফুজ্জামান।
এছাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পীযুষ রায়, সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুর রব, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, কাজী সালিমা হক মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইউনুস আলী সরদার, সরকারি আর.এস.কে.এস. ইনস্টিটিউশন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম নাসিরুল ইসলাম এবং ধুলজোড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক এ আয়োজনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। আয়োজকরা জানান, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা, গবেষণা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটাতেই এ ধরনের কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। প্রদর্শনী শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন প্রকল্পের প্রশংসা করা হয় এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ আয়োজন করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

