নাটোর প্রতিনিধি:
নাটোর-৩ (সিংড়া) আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুর নাটোর শহরের বাসভবনে আবারও দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। আড়াই মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বাড়িটির বিদ্যুৎ সংযোগের সব তার কেটে নিয়ে গেছে একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্র।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতের কোনো এক সময়ে শহরের নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজের প্রধান ফটকের বিপরীতে অবস্থিত ওই চারতলা ভবনে এই পরিকল্পিত চুরির ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকেও এমপি আনোয়ারুল ইসলাম আনুর ওই চারতলা ভবনে বিদ্যুৎ সচল ছিল। কিন্তু শেষ রাতের দিকে হঠাৎ করেই পুরো বাড়ির ১৬টি ইউনিটের বিদ্যুৎ একসঙ্গে চলে যায় এবং পুরো ভবন অন্ধকার হয়ে পড়ে।
পরিকল্পিতভাবে আসা চোরের দলটি চুরির সময় যাতে ধরা না পড়ে, সেজন্য ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়। একই সাথে ভবনের বাসিন্দারা যাতে বাইরে বের হতে না পারেন, সেজন্য বাহির থেকে প্রধান ফটক (গেট) শক্ত দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে।
ভোররাতে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় এবং ফ্যান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভবনে থাকা ভাড়াটিয়া ও পরিবারের সদস্যরা প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন। গরমে ছটফট করলেও বাইরে থেকে গেট লক থাকায় তারা কেউই নিচে বা বাইরে আসতে পারেননি। সকালে নিরুপায় হয়ে পাশের বাড়ির লোকজনকে ফোনে বিষয়টি জানালে, তারা এসে গেটের বাঁধন কেটে ভেতরের বাসিন্দাদের মুক্ত করেন।
মুক্ত হওয়ার পর সংসদ সদস্যের স্ত্রী সাহাবিবুল আসমা ও বাড়ির ভাড়াটিয়ারা দেখতে পান, পাশের বিদ্যুতের খুঁটি (খাম্বা) থেকে পুরো ভবনে আসা মেইন লাইনের সব তার কেটে নিয়ে গেছে চোরেরা।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের বাড়িতে আড়াই মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে গত ৩১ মার্চ ভোরের দিকেও একই কায়দায় এই বাসভবন থেকে সব তার চুরির ঘটনা ঘটেছিল।
ঘটনার পরপরই বিষয়টি নাটোর থানা পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট নেসকো/পল্লী বিদ্যুৎ অফিসকে জানানো হয়। সংসদ সদস্যের স্ত্রী সাহাবিবুল আসমা জানান, খবর পেয়ে সকাল থেকেই বিদ্যুৎ বিভাগের টেকনিশিয়ানরা এসে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কাজ শুরু করেছেন।
নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনসুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই ভোররাতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই সংঘবদ্ধ চোর চক্রটিকে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।”

