ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে আরও পরে আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
তেহরানের মেয়র আলিরেজা জাকানি বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জানান, খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য জুনের শেষ সপ্তাহ কিংবা জুলাইয়ের প্রথম দিকে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে ইরান সরকার ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররমের শুরুতেই তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মহররমের প্রথম ১০ দিন (আশুরা) শেষ হওয়ার পর এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হবে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘ফার্স’-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তেহরানের মেয়র জাকানি বলেন, “পবিত্র মহররম মাসের শোক ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই পূর্বঘোষিত সময়সূচিতে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।”
নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য ২৬ জুন থেকে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে যেকোনো এক সময়ে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তেহরান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঐতিহাসিক বিদায় অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশ থেকে প্রায় দুই কোটি মানুষের সমাগম ও অংশগ্রহণ হতে পারে বলে তারা আশা করছে। সেই লক্ষ্যে ব্যাপক নিরাপত্তা ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
১৯৮৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের স্থপতি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর দেশটির সর্বোচ্চ নেতার (সুপ্রিম লিডার) দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে ইরানের একক নেতৃত্ব দেওয়ার পর, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই ইরানের পরবর্তী রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা সমীকরণ চলছে।

