সারা দেশে গত কয়েকদিন ধরে চলা তীব্র ও ভ্যাপসা গরমের পর অবশেষে রাজধানীতে নেমেছে স্বস্তির বৃষ্টি। বুধবার (১০ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় তাপমাত্রা ও গরমের তীব্রতা এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে এসেছে। নগরবাসীর জন্য এই বৃষ্টি যেন এক পশলা স্বস্তির পরশ হয়ে এসেছে।
বুধবার সকাল থেকেই রাজধানীর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। দুপুরের দিকে হঠাৎ শুরু হওয়া বৃষ্টি দ্রুতই ভারী বর্ষণে রূপ নেয়। ঢাকার যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান, শাহবাগ, ধানমন্ডি, কলাবাগান, গ্রিন রোড, ফার্মগেট, রাজাবাজার, পান্থপথ, বাংলামোটর ও কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ভারী বৃষ্টির কারণে বরাবরের মতোই রাজধানীর কয়েকটি নিচু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান সড়ক ও গলিপথগুলোতে পানি জমে যাওয়ায় দুপুরের পর থেকে যান চলাচল কিছুটা ধীর হয়ে পড়ে। বৃষ্টিতে অনেক পথচারীকে ছাতা হাতে, আবার অনেককে ভিজেই গন্তব্যে ছুটে চলতে দেখা গেছে।
সারা দেশে বর্ষার আবহ তৈরি হওয়ার মাঝেই দিনের শেষ ভাগে আবহাওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ সন্ধ্যার মধ্যে দেশের ১৭টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে তীব্র ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রঝড় ধেয়ে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এসব এলাকায় এ সময়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে তীব্র দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
নদীপথে নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বিধায় দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোকে বিশেষ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার কারণে নদী উত্তাল হয়ে ওঠার আশঙ্কায় আবহাওয়া অফিস উল্লিখিত ১৭টি এলাকার সব অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কসংকেত দেখাতে বলেছে।
একই সাথে নদীপথে চলাচলকারী সব যাত্রীবাহী লঞ্চ, বাল্কহেড ও মাছ ধরার ট্রলারকে সাবধানে উপকূলের কাছাকাছি থেকে চলাচল করতে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

