সামাজিক মাধ্যমসহ সাইবার স্পেসে ভুয়া তথ্য, গুজব, মানহানিকর কনটেন্ট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর ভিডিও, অডিও ও ছবি ঠেকাতে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সেখানে জানানো হয়, ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকে ক্ষতিকর কনটেন্ট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অপসারণে বাধ্য করার বিধান নতুন আইনে যুক্ত করা হবে।
সরকারি পক্ষ জানায়, ভুয়া আইডি, বট নেটওয়ার্ক এবং এআই-নির্ভর অপপ্রচারের বিস্তার বাড়ছে। বিশেষ করে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার রোধে আইন হালনাগাদ করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন সংশোধনে “সাইবার স্পেস”-এর সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হবে। সামাজিক মাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ভার্চুয়াল মিডিয়াকে আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি গুজব, অপতথ্য, মানহানি ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং এর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া কনটেন্টের প্রবণতা বাড়ায় আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা এবং দ্রুত কনটেন্ট অপসারণ নিশ্চিত করার বিধান রাখা হবে।
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞ ও সাইবার বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাদের মতে, অপতথ্য ও অনলাইন অপরাধ নিয়ন্ত্রণ জরুরি হলেও, আইনটির প্রয়োগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

