সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার):
আগামী ১৭ জুন মৌলভীবাজার সফরে এসে তৃতীয় ধাপের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। সম্ভাব্য এ সফরকে সামনে রেখে শ্রীমঙ্গল ও রাজনগরের কয়েকটি স্থান পরিদর্শন করেছে জেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সম্ভাব্য অনুষ্ঠানস্থলগুলো ঘুরে দেখে। এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে,সকালে শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও মির্জাপুর ইউনিয়নের কয়েকটি স্থান পরিদর্শন করা হয়। পরে রাজনগর উপজেলা চত্বর এবং রাজনগর ডিগ্রি কলেজ মাঠ পরিদর্শন করেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সম্ভাব্য ভেন্যুগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে। আগামী ১৭ জুন রাজনগর উপজেলা ও শ্রীমঙ্গলের মির্জাপুর ইউনিয়নে তৃতীয় ধাপের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনের সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি জানান,অনুষ্ঠানস্থল এখনো চূড়ান্ত হয়নি। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) সম্ভাব্য স্থানগুলো পরিদর্শনের পর নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির বাইরে অন্য কোনো কর্মসূচি যুক্ত হবে কি না,সে বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমানে এ কর্মসূচিই মূল আয়োজন হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে। পরবর্তীতে সরকারি পর্যায় থেকে নতুন কোনো কর্মসূচি যুক্ত হলে তা জানানো হবে।
এদিকে সম্ভাব্য সফরকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন দাবির বিষয় সামনে এসেছে। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রহিম রিপন বলেন,দীর্ঘদিন ধরে মৌলভীবাজারবাসীর মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা,শমশেরনগর বিমানবন্দর চালু ও আধুনিকায়ন,যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষি ও হাওরাঞ্চলের উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে তারা আশা করছেন।
তিনি আরও বলেন,সম্ভাব্য সফর সফল করতে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ সফরের মাধ্যমে জেলার উন্নয়ন ও জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য আগমনকে কেন্দ্র করে শ্রীমঙ্গল ও রাজনগরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারকরণ, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ,যানবাহন চলাচল ব্যবস্থাপনা এবং অনুষ্ঠান আয়োজনের বিভিন্ন বিষয় ইতোমধ্যে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা,আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রস্তুতি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

