মো আলম, বান্দরবান প্রতিনিধি:
বান্দরবানে “জেলা পর্যায়ে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালা” অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে বান্দরবান জেলা সদরের হোটেল ডি’মোর এন্ড রিসোর্ট এর হলরুমে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব আ.ন.ম. নাজিম উদ্দীন, সদস্য,(যুগ্মসচিব),বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও প্রকল্প পরিচাল।
এতে সভাপতিত্ব করেন এস.এম. হাছান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বান্দরবন পার্বত্য জেলা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,জিনিয়া চাকমা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বান্দরবান পার্বত্য জেলা। জনাব ডাঃ মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী, সিভিল সার্জন, বান্দরবান পার্বত্য জেলা। শুভ দাশ, নিরাপদ খাদ্য অফিসার, বান্দরবান।
এ সময় প্রধান অতিথি বলেন, অনেকের অসচেতনার কারণে ও নিরাপদ ও ভেজাল খাদ্য গ্রহণ করছেন। এ ক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ নিরাপদ খাদ্য নিয়ে
সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি খাদ্য সংশ্লিষ্ট সকলে এ বিষয়ে সচেতন হলেই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
সিভিল সার্জন বলেন,খাদ্যে ভেজাল মেশানো অসাধু ব্যবসায়ীদের কাজ এবং এর ফলে জনস্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পরে। যেমন কিডনি, লিভারের ক্ষতি ও ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় অসংখ্য মানুষ। যত বেশি হোটেল বেড়েছে তত বেশি ফার্মেসিও বেড়েছে।
এসময় বক্তারা আরও বলেন, নিরাপদ খাদ্য হলো এমন খাদ্য যাতে কোনো বিষাক্ত ক্ষতিকর বা রোগ সৃষ্টিকারী পদার্থ বা জীবাণু থাকে না অর্থাৎ যা মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। যে সকল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান খাদ্য উৎপাদন বিতরণ প্রস্তুতি গ্রহণের সঙ্গে সম্পৃক্ত তারা সবাই খাদ্য শৃঙ্খলের অংশ, তাই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা যেখানে সরকার, খাদ্য ব্যবসায়ী এবং ভোক্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সরকার বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণের জন্য বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করেছে। ভোক্তাদের নিকট যে খাবার সরবরাহ করা হয় তা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা খাদ্য ব্যবসায়ীগণের দায়িত্ব। সংশ্লিষ্ট আইন, বিধি-বিধান মেনে খাদ্য ব্যবসায়ীগণ খাদ্য প্রস্তুত, আমদানি, সরবরাহ, সংরক্ষণ, বিপণন এবং পরিবেশন করবেন।
এ সময় পরামর্শমূলক গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য ভিডিও চিত্র পর্দার মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। রেফ্রিজারেশন এ খাদ্য রাখার উপায়, কাঁচা খাবার থেকে রান্না করা খাবার আলাদা রাখা, খাবার নিরাপদ তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, বাজার থেকে খাদ্য বাছাই করার জন্য বিশ্বস্ত এবং নির্ভরযোগ্য দোকান বাছাই করা, নিরাপদ ও পুষ্টি সমৃদ্ধ সুষম খাদ্য গ্রহণ করা।
সভাপতির বক্তব্যে এস.এম. হাছান বলেন, খাদ্য মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা। তবে খাদ্য হতে হবে নিরাপদ, অনিরাপদ খাদ্য স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, সুস্থ থাকার জন্য খাদ্য নিরাপদ হওয়া প্রয়োজন।ভেজাল খাদ্য প্রতিরোধে কঠোর তদারকি এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের ওপর জোর দাবি জানান।

