সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার):
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার লাহারপুর খিলগাঁও গ্রামে একটি বসতবাড়িতে ঢুকে পড়া একটি তক্ষক উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গ্রামের ধীরেন্দ্র ডাক্তারের বাড়িতে তক্ষকটি প্রবেশ করে। পরে এটি বাড়ির বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করতে থাকলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে রাতের বেলায় তারা স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতেও পারছিলেন না। প্রায় তিন থেকে চার দিন ধরে প্রাণীটি বাড়ির ভেতরে অবস্থান করার পর পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে তক্ষকটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে উদ্ধারকৃত প্রাণীটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল জানান,তক্ষক গেকোনিডি গোত্রের একটি বৃহৎ আকারের গিরগিটি। সাধারণত এদের দেহ ধূসর বা নীলচে-ধূসর বর্ণের হয়ে থাকে এবং শরীরজুড়ে লাল ও সাদাটে ফোঁটা দেখা যায়। তক্ষক বিষাক্ত নয়। তবে আত্মরক্ষার প্রয়োজনে বা বিরক্ত করা হলে এরা জোরে শব্দ করে এবং কামড়াতে পারে।
পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ বলেন, শ্রীমঙ্গলের বনাঞ্চল,বিশেষ করে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে তক্ষকের উপস্থিতি দেখা যায়। এরা অত্যন্ত নির্জনতাপ্রিয় ও নিশাচর প্রাণী। পুরুষ তক্ষক নিজেদের এলাকা রক্ষা এবং স্ত্রী প্রাণীকে আকৃষ্ট করার জন্য ‘তক-কে’ বা ‘গেক-কো’ ধরনের উচ্চস্বরে ডাক দেয়,যা বেশ দূর থেকেও শোনা যায়।
তিনি আরও জানান,তক্ষক অত্যন্ত আঞ্চলিক স্বভাবের প্রাণী। নিজেদের এলাকায় অন্য প্রাণী বা মানুষের উপস্থিতি টের পেলে মুখ হাঁ করে ভয় দেখায় এবং হুমকি অনুভব করলে শক্তভাবে কামড়ে ধরে। শিকারের জন্য দীর্ঘ সময় এক স্থানে ওত পেতে থাকে। এদের খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন কীটপতঙ্গ, ছোট সাপ, পাখি ও ছোট ইঁদুর রয়েছে। বিপদের সময় লেজ খসিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাও এদের রয়েছে,যা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় গজিয়ে ওঠে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে,তক্ষক পরিবেশের জন্য উপকারী প্রাণী। ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এ ধরনের বন্যপ্রাণীকে অযথা বিরক্ত না করে নিরাপদে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

