শাহজাহান আলী মনন, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
নীলফামারীতে প্রখর রোদের পাশাপাশি ভ্যাপসা গরমে স্বস্তি মিলেছে না কোথাও।
অস্বস্তিকর আবহাওয়ায় জ্বর, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। গরমে অনেক শিশুসহ সব বয়সী মানুষ জ্বর-সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট জনিত রোগেও ভুগছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে।
নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, রোববার (৭ জুন) দুপুর পর্যন্ত ডায়রিয়া ও শিশু ওয়ার্ডে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৬৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭০ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী রয়েছে। একইদিনে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ২০৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টের রোগীই বেশি। অন্যান্য হাসপাতালগুলোর আউটডোরে এসব রোগে আক্রান্তদের ভীড় বাড়ছে।
এক সপ্তাহের মধ্যে ডায়রিয়া ও নিমোনিয়া রোগীর সংখ্যা বেশি বাড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে রোগীর চাপে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল ও সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বাড়ানো হয়েছে বেড। তবে ডায়রিয়া রোগীর জন্য শয্যা সংখ্যা সংকুলান নয়। ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে ওয়ার্ডের বাইরে চলাচলের রাস্তার মেঝেতে থাকছেন।
নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে লাকী বেগম বলেন, আমার ছেলে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি করেছি, এখন পযন্ত অসুস্থতা কমেনি। কিছু ঔষধ হাসপাতাল দিছে বাকী ঔষধ বাহির থেকে কেনেছি। ডাক্তার বলছে প্রতিদিন চারবার গ্যাস দিতে।
চওড়া বড়গাছা কুড়িগ্রামপাড়া থেকে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে মেয়ের চিকিৎসার জন্য এসেছেন হামিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আশঙ্কা করছি তীব্র গরমের কারণেই মেয়ের ডায়রিয়া হয়েছে। গত তিনদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছি। হাসপাতালে ঠিক মতো ঔষধ না থাকায় বাহির থেকে কিনতে হচ্ছে।
সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি শহরের বাবুপাড়ার সাজিদ ইসলাম বলেন, গরমে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে এখানে এসেছি। কিন্তু রোগীর চাপের কারণে ওয়ার্ডে বেড পাইনি। তাই করিডোরেই বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। স্যালাইনও চলছে এখানে। কঠিন অবস্থা।
নীলফামারী হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স বলেন, আমাদের এখানে পর্যাপ্ত রোগী আসতেছে।
বর্তমানে কাজ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রতিদিন ৪০ জনের বেশি নতুন ডায়রিয়া রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় বেড সংকটে করিডোরেও রোগীদের বিছানা করে দিতে হচ্ছে। সেখানেই তাদের চিকিৎসা চলছে।
সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল হুদা বলেন, প্রতিদিনই ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে। এর বেশির ভাগই ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত। অতিরিক্ত গরমে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়তেছে। আবার অনেকে বিশেষ করে বয়স্করা হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েও আসছেন।
তিনি আরও বলেন, অনেক সময় অসচেতনতার কারনেও হয়। শীতে যেমন ডায়রিয়া রোগী বাড়ে তেমনি অতিরিক্ত গরমেও বাড়ে। সেই সাথে শ্বাসকষ্ট জনিত নানা রোগের প্রকোপ বাড়ে। এক্ষেত্রে সতর্কতাই বড় ধরনের ঝুঁকি প্রতিরোধ করতে পারে।
হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল আউয়াল বলেন, গত কয়েক দিন ধরে ভাপসা গরমে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, হাঁপানী, এ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টসহ হিটস্ট্রোক রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এর মধ্যে শিশু রোগীর সংখ্যাই বেশি।
এ ব্যাপারে সতর্কতার বিষয়ে তিনি বলেন,
এই গরমে শিশুদের রোদে বের করা যাবে না। বাহিরের খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। পানি বেশি করে খাওয়াতে হবে। এরপরও অসুস্থতা বোধ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিসকের পরামর্শ দেন তিনি ।
নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আব্দুল্লাহেল মাফি বলেন, মূলত গরমে ডায়রিয়ার, নিউমোনিয়া জ্বরসহ শিশুরা বিভিন্ন রোগে প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। এবারও গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে ডায়রিয়া একটু বেড়েছে।
ওষুধ না পাওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ঔষধ সরবরাহ কম থাকায় রোগীদের চাহিদা মতো ঔষধ দিতে পারছি না। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ঔষধ সরবরাহ বাড়বে বলে জানান তিনি।

