মোঃ তৌহিদুর রহমান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেড় মাস আগে জাহাঙ্গীর মল্লিক (৩৭) নামে এক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
তাদের অভিযোগ, এজাহারভুক্ত ৯ জন আসামির মধ্যে ৭ জন জামিনে মুক্ত হলেও প্রধান দুই আসামি এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না।
শনিবার (৬ জুন) বেলা ১১টার দিকে গোয়ালন্দ বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মহিউদ্দিন আনসার ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন জাহাঙ্গীরের পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রায় দেড় মাস আগে ছাগল ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে গত ২৬ এপ্রিল মানিক মোল্লা ও আলম মন্ডলসহ ৮-৯ জনের একটি দল জাহাঙ্গীরের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এবং লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
আহত জাহাঙ্গীরকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি বাড়িতে চিকিৎসাধীন থাকলেও তার অবস্থার চরম অবনতি হয়েছে। পরিবারের দাবি, তিনি খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না, কথা বলতে পারছেন না, এমনকি কাউকে চিনতেও পারছেন না। অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানান তারা।
মামলার বাদী ও জাহাঙ্গীরের বড় ভাই মকিম মল্লিক অভিযোগ করেন, মামলার ১ ও ২ নম্বর আসামি মো. মানিক মোল্লা (৩০) ও মো. আলম মন্ডল (৪৫) এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের অবস্থান পুলিশকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। উল্টো আসামিরা মামলা তুলে নিতে আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আহত জাহাঙ্গীরের মা মহিরন বেগম, বোন রাহিমা খাতুন এবং স্ত্রী আছমা বেগম।
অভিযোগের বিষয়ে মামলার ১ নম্বর আসামি মানিক মোল্লা মুঠোফোনে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে দাবি করেন, জাহাঙ্গীর মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত। তাকে মাদক সেবন থেকে বিরত থাকতে বলায় এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, আমি কোনো ধরনের মাদক গ্রহণ করি না। এলাকায় খোঁজ নিলেই সত্যতা পাওয়া যাবে।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মামলার ৯ জন এজাহারভুক্ত আসামির মধ্যে ৭ জন আদালত থেকে জামিন নিয়েছে। ১ ও ২ নম্বর আসামির জামিন হয়নি এবং তারা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। ভুক্তভোগীর অবস্থা গুরুতর এবং তাকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে আমরা আন্তরিক। তবে পরিবারের সব অভিযোগ সঠিক নয়।
ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

