এমএ আউয়াল আশিক:
ঈদের আনন্দের আবহে যখন অধিকাংশ মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাতে ব্যস্ত, তখন সমাজের অবহেলিত এক বৃদ্ধার পাশে দাঁড়িয়েছেন একদল তরুণ। শিবির কর্মী হাসানুল বান্না তাসনীম ও তার সহকর্মীরা ওই বৃদ্ধার খোঁজ নিতে গিয়ে হৃদয়বিদারক এক বাস্তবতার মুখোমুখি হন।
একটি ছোট্ট টিনের ঘরের সামনে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে তাকালে দেখা যায় প্রায় ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা খাটের কোণে বসে ভাঙা হাতপাখা দিয়ে নিজেকে বাতাস করছেন। বয়স ও শারীরিক দুর্বলতায় তার চলাফেরাও কষ্টসাধ্য ছিল।
ঘরে প্রবেশ করে দেখা যায়, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বৃদ্ধা একাই বসবাস করছেন। ঘরের আসবাব বলতে একটি কাঠের খাট, পুরোনো তোষক, একটি শেলফ এবং কোণে একটি চুলা। চুলার ওপর রাখা ছিল কোরবানির রান্না করা কিছু মাংস।
বৃদ্ধার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি শ্রবণ প্রতিবন্ধী। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তার ছেলে-মেয়েরা জীবিত এবং ছেলের আর্থিক অবস্থাও স্বচ্ছল হলেও তিনি একাই বসবাস করেন। এমনকি এই বয়সেও নিজের রান্নাবান্না নিজেকেই করতে হয়। তার এমন অবস্থায় তরুণরা প্রয়োজনীয় কিছু সহায়তা প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
একজন স্বেচ্ছাসেবক বলেন, “বাবা-মা আমাদের লালন-পালন করে বড় করেন। অথচ অনেক সময় বার্ধক্যে এসে তারা অবহেলিত হন। এটি শুধু পরিবারের নয়, সমাজেরও ব্যর্থতা।”
তারা আরও বলেন, সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে এমন অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নত করা সম্ভব। স্থানীয়রা তরুণদের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং বৃদ্ধাও তাদের জন্য দোয়া করেন।

