জয়পুরহাট প্রতিনিধি:
জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় মাছুম হোসেন (২৩) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার তিলকপুর রেলক্রসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মাছুম হোসেন পার্শ্ববর্তী নওগাঁ সদর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের শ্রীধরপুর গ্রামের মিলন হোসেনের একমাত্র ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষ গোলাম মোস্তফা ও তার ছেলে শিবলুর সঙ্গে মাছুমের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরেবিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই মাছুম ও তার পারিবারের লোকজনদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে মাছুম স্থানীয় কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে তিলকপুর রেলস্টেশন এলাকায় গল্প করছিলেন। পরে তাদের বন্ধু জয়কে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে মোটরসাইকেলে ফেরার পথে আক্কেলপুর-তিলকপুর সড়কের রেলক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে শিবলুর নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল তাদের পথরোধ করে। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা মাছুমের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে। এসময় গুরুতর আহত অবস্থায় মাছুম মোটরসাইকেল থেকে সড়কে লুটিয়ে পড়েন। পরে তার সঙ্গে থাকা বন্ধুরা উদ্ধার করে পাশ্ববর্তী জেলার নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মোস্তফা ও শিবলুগন এর আগেও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০১৯ সালে মাছুমের প্রতিবেশী দাদা ফজলুর রহমানকে হত্যা করা করে। এছাড়া গত ৫ আগস্টের পর ফজলুর রহমানের ছেলে রতনকেও হত্যা করে। পূর্বের দুটি হত্যা মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
একমাত্র ছেলে হারিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাছুমের মা রুমি আক্তার বলেন, জমিজমাকে কেন্দ্র করে তারা আমার একমাত্র ছেলেটাকে ছুরি মেরে হত্যা করেছে। আমি কোনো জমি চাই না, আমার বুকের ধনকে ফিরিয়ে দেক। যারা আমার ছেলেকে এভাবে হত্যা করেছে, আমি তাদের বিচার চাই।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, জমিজমা নিয়ে তাদের মধ্যে পূর্ব শত্রুতা ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। রাতেই অভিযান চালিয়ে ভোরে প্রধান অভিযুক্ত শিবলুর বাবা গোলাম মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এঘটনায় মাছুমের মা বাদি হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের প্রস্তুতি নিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থানার আওতাধীন হলেও নিহত ও অভিযুক্তদের বাড়ি নওগাঁ সদর থানার এলাকায়। নিহতের মরদেহ বর্তমানে নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে।

