দিনাজপুর প্রতিনিধি:
মফস্বলের সীমাবদ্ধতাকে পেছনে ফেলে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি মেডিকেল-নার্সিং কলেজে নিজেদের জায়গা করে নিয়ে বীরগঞ্জের ১১৭ শিক্ষার্থী এখন সাফল্যের উজ্জ্বল উদাহরণ। কঠোর প্রতিযোগিতাপূর্ণ ভর্তি পরীক্ষায় অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জনকারী এসব শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে ‘ভিক্টোরি প্লাস বিশ্ববিদ্যালয় ও নার্সিং ভর্তি কোচিং।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দিনাজপুরের বীরগঞ্জ শালবন মিলনায়তনে আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর মিলনমেলায়। কৃতি শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী দিয়ে বরণ করে নেন অতিথিরা। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে পুরো মিলনায়তন ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখর।
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভিক্টোরি প্লাস থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ জন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১ জন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪ জন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ জন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ জন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ জন, বিইউপিতে ১ জন, গুচ্ছভুক্ত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৫ জন এবং সরকারি নার্সিং কলেজে ৪২ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
সব মিলিয়ে ১১৭ জন শিক্ষার্থীর এই অভাবনীয় সাফল্য বীরগঞ্জের শিক্ষা অঙ্গনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।
অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্সপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী অনিক শীল বলেন,
“মফস্বল থেকে দেশের সেরা বিদ্যাপীঠে জায়গা করে নেওয়ার পথটা সহজ ছিল না। কিন্তু ভিক্টোরি প্লাসের শিক্ষকদের আন্তরিক দিকনির্দেশনা, নিয়মিত পরীক্ষা ও গুছানো প্রস্তুতি আমাকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। আজকের এই অর্জন আমার পরিবার ও শিক্ষকদের স্বপ্নপূরণেরই প্রতিফলন।”
সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থী আঁখি আক্তার বলেন, “ভর্তি পরীক্ষার সময় অনেক কঠিন মুহূর্ত এসেছে। যখনই হতাশ হয়েছি, শিক্ষকরা বড় ভাইয়ের মতো পাশে দাঁড়িয়ে সাহস দিয়েছেন। ভবিষ্যতে একজন মানবিক চিকিৎসক হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।”
ইব্রাহিম মেমোরিয়াল শিক্ষা নিকেতনের সহকারী শিক্ষক আসাদুল ইসলাম দুলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বীরগঞ্জ সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আ. মতিন, বীরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মো. রফিকুল ইসলাম, সমাজসেবক আক্কাস আলী এবং বীরগঞ্জ সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান রোকনুজ্জামান রোকন।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সমাজসেবক সোহেল আহমেদ, কুতুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রকাশ চন্দ্র রায়, ব্র্যাক ব্যাংকের কর্মকর্তা কৌশিক ঘোষ, জগদল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সামিউল ইসলাম ও সানশাইন রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাকিবুল ইসলামসহ স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা।
বক্তারা বলেন, “একসঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শুধু ভিক্টোরি প্লাসের নয়, পুরো বীরগঞ্জবাসীর গর্ব। এই সাফল্য প্রমাণ করে—সঠিক দিকনির্দেশনা, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস থাকলে মফস্বলের শিক্ষার্থীরাও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে পারে।”
সমাপনী বক্তব্যে ভিক্টোরি প্লাস বিশ্ববিদ্যালয় ও নার্সিং ভর্তি কোচিংয়ের পরিচালক মো. সোহেল রানা বলেন, “আজকের এই অর্জন আমাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফসল। আমরা শুধু একটি কোচিং প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণের সহযাত্রী হিসেবে কাজ করছি।
১১৭ জন শিক্ষার্থীর এই সাফল্য আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতেও বীরগঞ্জের শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।”
অনুষ্ঠান শেষে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। দিনব্যাপী এই আয়োজন উপস্থিত অনুজ শিক্ষার্থীদের মাঝেও উচ্চশিক্ষা ও স্বপ্নজয়ের নতুন প্রেরণা সৃষ্টি করেছে।

