দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ও রোগের লক্ষণ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪৫ জনে।
সোমবার (২৫ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার (২৪ মে) সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে একজন নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে এবং ১৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। এই সময়ে নতুন করে আরও অনেক শিশুর শরীরে রোগের লক্ষণ দেখা দিয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ৮৭ জন। অন্যদিকে, হামের মতো উপসর্গ বা সন্দেহভাজন হামে মৃত্যু হয়েছে ৪৫৮ জনের। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা এখন পাঁচ শতাধিক ছাড়িয়েছে।
আক্রান্তের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে:
নিশ্চিত হামে আক্রান্ত: ৮ হাজার ৭১৯ জন।
সন্দেহভাজন হামে আক্রান্ত: ৬৪ হাজার ৯৪০ জন।
হাসপাতালে ভর্তি: এ পর্যন্ত ৫১ হাজার ৫৮৫ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৪৭ হাজার ৬১৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, মৃত্যুর হারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগ।
নিশ্চিত হামে মৃত্যু: ঢাকা বিভাগে ৫১ জন, বরিশালে ১৯ জন, চট্টগ্রামে ১০ জন, সিলেটে ৩ জন এবং ময়মনসিংহ ও রাজশাহীতে ২ জন করে শিশু মারা গেছে।
সন্দেহজনক হামে মৃত্যু: এখানেও শীর্ষস্থানে ঢাকা (১৮০ জন)। এরপর রাজশাহীতে ৮২ জন, সিলেটে ৫৩ জন, চট্টগ্রামে ৪৪ জন, ময়মনসিংহে ৩৮ জন, বরিশালে ৩৪ জন, খুলনায় ২১ জন এবং রংপুরে ৬ জন প্রাণ হারিয়েছে।
ঈদুল আজহার আগমুহূর্তে জনসমাগম এবং ঈদযাত্রার ফলে হামের এই সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা শিশুদের ভিড় থেকে দূরে রাখা এবং হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হলেও পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে আসতে আরও সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

