সঞ্জয় মালাকার, রাজনগর প্রতিনিধি:
রাজনগর উপজেলার সোনাটিকি এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫টি সিএনজি অটোরিকশা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। রোববার মধ্যরাতে সোনাটিকি চৌমুহনা পয়েন্টে ইমন আখন্দের গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি সিএনজি অটোরিকশার যান্ত্রিক ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।
অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হওয়ার পরপরই আগুনের ভয়াবহতা দেখে সোনাটিকি এলাকার মানুষ জীবনবাজি রেখে তা নিয়ন্ত্রণে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ফায়ার সার্ভিসের দল পৌঁছানোর আগেই এলাকাবাসীর সম্মিলিত ও অসীম সাহসিকতাপূর্ণ প্রচেষ্টায় আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবশিষ্ট আগুন পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। আগুনের ভয়াবহতা দেখে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ দ্রুত রাজনগর থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেন। খবর পেয়ে এসআই আরিফ উল্লাহর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেন এবং তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এলাকাবাসীর সেই সাহসিকতা না থাকলে সোনাটিকি চৌমুহনা পয়েন্টে এক মহাবিপদ ঘটতে পারত। সরেজমিনে দেখা যায়, গ্যারেজের পাশেই ছিল বৈদ্যুতিক মেইন লাইন। আগুন যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসত, তবে বৈদ্যুতিক তারের মাধ্যমে লেলিহান শিখা পার্শ্ববর্তী দোকানপাটসহ পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ত এবং পুরো চৌমুহনা বাজার ভস্মীভূত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এলাকাবাসীর সচেতনতা ও দ্রুততম সময়ের তৎপরতায় বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে পুরো এলাকা।
অগ্নিকাণ্ডে নিজেদের আয়ের একমাত্র সম্বল হারিয়ে এখন দিশেহারা ক্ষতিগ্রস্তরা। ক্ষতিগ্রস্ত এক চালক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “গাড়িটি পুড়ে আমি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি। এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে বাঁচব, কীভাবে সংসার চলবে—সেই চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছি।”
ক্ষতিগ্রস্ত মালিক ও ড্রাইভাররা হলেন এলাকার,
১. ড্রাইভার: রুবেল মিয়া (মালিক: হাফিজ)
২. মালিক ও ড্রাইভার: জুবায়েল
৩. ড্রাইভার:কাওছার (মালিক: খয়রুল ইসলাম)
৪. মালিক ও ড্রাইভার:তোফায়েল
৫. মালিক ও ড্রাইভার: রিমন
এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নুরুল আমিন খান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “এলাকাবাসীর সাহসিকতায় আমরা বড় বিপদ থেকে বেঁচে গেছি। তবে ক্ষতিগ্রস্তরা আজ সর্বস্বান্ত। আমি প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, তদন্তের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যেন প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়।”

