মুহাম্মদ মহসিন আলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
পবিত্র ঈদুল আজহা কে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই এখন কোরবানির পশু প্রস্তুতির ব্যস্ততা। খামারের উঠানজুড়ে গরুর ডাকে মুখর পরিবেশ, আর খামারিদের নিরলস যত্নে তৈরি হচ্ছে স্বাস্থ্যবান পশু।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যনুযায়ী , এ বছর জেলায় মোট ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৩৫টি গবাদিপশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলার ১৪ হাজার ৭৯২টি খামারে এসব পশু লালন-পালন করা হয়েছে। প্রান্তিক কৃষকদের পালন করা পশু যুক্ত হলে সরবরাহ আরও বাড়বে—এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলায় এবারের সম্ভাব্য চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার পশু। তবে স্থানীয় উৎপাদনের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে পশু আসায় চাহিদা পূরণে কোনো ঘাটতি থাকবে না বলেই আশা করা হচ্ছে।
জেলার প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, সদর উপজেলায় ২৯ হাজার ৬৭৫টি, সরাইলে ২১ হাজার ৫৯৮টি, নাসিরনগরে ১৩ হাজার ২৯৮টি, কসবায় ১৪ হাজার ৭৫টি এবং বিজয়নগরে ১৩ হাজার ২২২টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া নবীনগর, বাঞ্ছারামপুর, আশুগঞ্জ ও আখাউড়াতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পশু প্রস্তুত করা হয়েছে।
পশু খামারী সেলিম মিয়া বলেন, প্রশাসনের তথ্যের বাইরে আরও অধিক সংখ্যক পশু কুরবানি ঈদের জন্য পালন হয়েছে। এতে নিশ্চিত বুঝা যায় পশু সংকটের আশংকা নেই। তবে ভারত থেকে পশু সীমান্ত পেরিয়ে না আসার ব্যাপারে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
সরেজমিনে খামারগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, দিন-রাত পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত খামারি ও শ্রমিকরা। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, প্রাকৃতিক খাদ্য ও নিয়মিত পরিচর্যায় পশুগুলোকে করে তোলা হচ্ছে বাজার উপযোগী।
সৌদি আরব প্রবাস ফেরব খামারী আবুল হোসেন বলেন, “আমার খামারে প্রায় ১৬০ টি গরু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে ১২০টি ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। আমরা প্রাকৃতিক খাবার ব্যবহার করি, তাই ক্রেতারা আগেভাগেই এসে গরু বুকিং দিয়ে যান।”
খামারী শাকিল আহমেদ জানান,
এ বছর মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি হলেও পশুখাদ্য ও ধানের কুঁড়ার দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। তিনি বলেন, “যদি সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু প্রবেশ করে, তাহলে স্থানীয় খামারিরা ক্ষতির মুখে পড়বেন।”
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুল ইসলাম বলেন, “ভারতীয় গরু যাতে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।”
সব মিলিয়ে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোরবানির পশু প্রস্তুতি এবার আশাব্যঞ্জক। খামারিদের ঘামঝরা পরিশ্রম, প্রশাসনের তৎপরতা এবং বাজার ব্যবস্থাপনার সঠিক সমন্বয় থাকলে আসন্ন ঈদে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্যই একটি স্বস্তির বাজার নিশ্চিত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

