সত্যজিৎ দাস:
মৌলভীবাজার শহরের সৈয়ারপুর এলাকায় এক নারীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের ঘটনায় আন্তঃজেলা ছিনতাইকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত স্বর্ণের চেইনও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া একজনের বিরুদ্ধে ডাকাতি,অস্ত্র ও দস্যুতাসহ বিভিন্ন মামলায় দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি কারাভোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন;সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার পূর্ব ছিরামপুর এলাকার আফতাব মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৪২) ওরফে মরা জাহাঙ্গীর এবং একই উপজেলার চান্দাই এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে আকমল হোসেন (৩৯)।
পুলিশ জানায়,গত ১৭ মে বিকেল আনুমানিক ৫টা ৩৮ মিনিটে ভুক্তভোগী নারী সন্তানসহ অটোরিকশায় বাসায় ফিরছিলেন। মৌলভীবাজার শহরের সৈয়ারপুর লক্ষীবালা স্কুল রোডের কালীমন্দির সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে লাল রঙের একটি মোটরসাইকেলে আসা তিন ছিনতাইকারী অটোরিকশার গতি রোধ করে। পরে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার গলায় থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় তারা। চেইনটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার একটি বিশেষ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। পরে ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করে সিলেট জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় টানা তিন দিন অভিযান চালানো হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২১ মে সিলেট মহানগরীর শাহপরাণ থানার কুশিঘাট এলাকা থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আম্বরখানা বড়বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আকমল হোসেনকে আটক করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শিববাড়ী এলাকার একটি স্বর্ণের দোকান থেকে লুণ্ঠিত স্বর্ণের চেইন উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে,আন্তঃজেলা এই ছিনতাইকারী চক্রটি মোটরসাইকেলে সিলেট মহানগর এলাকা থেকে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে নারীদের অনুসরণ করত। নির্জন স্থান নির্বাচন করে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালঙ্কার,মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যেত তারা। মৌলভীবাজার সদর,শ্রীমঙ্গল,বড়লেখা ও কুলাউড়া এলাকায় চক্রটির সক্রিয়তা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ছাড়া,গত ১০ জুন ২০২৫ সালে মৌলভীবাজার শহরের বেরীরপাড় এলাকায় সংঘটিত একই ধরনের একটি ছিনতাইয়ের সঙ্গেও এই চক্রের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ আরও জানায়,জাহাঙ্গীর আলম ওরফে মরা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া ডাকাতি,অস্ত্র,দ্রুত বিচার ও দস্যুতার মামলায় ১৫ বছরের বেশি কারাভোগের রেকর্ড রয়েছে।
মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খায়েরের তত্ত্বাবধানে সদর মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম এ অভিযান পরিচালনা করে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

