শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের শার্শায় এক মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিজ প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের যৌন হয়রানি ও অনৈতিক আচরণ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার (২০ মে) উপজেলার সামটা সিদ্দিকিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মোমিনুলের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই তিনি এলাকা ছেড়ে লাপাত্তা রয়েছেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোমিনুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ওই মাদ্রাসার বিভিন্ন ছাত্রীকে নানা প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি তাঁর প্রতিষ্ঠানের দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করার ঘটনাটি প্রকাশ পেলে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসী মাদ্রাসায় গিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোমিনুল ইসলাম তাঁর মুঠোফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে গেছেন। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো পবিত্র জায়গায় যারা এ ধরনের জঘন্য ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া উচিত নয়। পলাতক শিক্ষক মোমিনুলকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল।

