সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর:
দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)-এ দুই আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৩১ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আজ শুক্রবার দুপুরে হাবিপ্রবি রেজিস্টার প্রফেসর ড. মোঃ আবু হাসান সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ও শৃঙ্খলা বোর্ডের ২৭তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. আবু হাসান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে শহীদ আবরার ফাহাদ হলের শতাধিক শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে শহীদ নূর হোসেন হলে হামলা চালায়। এ সময় অতর্কিত হামলায় হলের নামাজঘর, বিভিন্ন কক্ষের আসবাবপত্র, সিসি ক্যামেরা ও অন্যান্য সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করা হয়। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী প্রক্টরসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।
অফিস আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্তে ৩১ শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের “Ordinance of Students Discipline”-এর ১৪ ও ১৫ ধারায় বর্ণিত আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ, অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বহিষ্কারের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে বলেও জানানো হয়।
সাময়িক বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন— মো. নাঈমুর রহমান, মো. তৌহিদুল ইসলাম তুরাগ, শাকির মাহমুদ, দুর্জয় চন্দ্র বর্মণ, মো. সজিব হোসেন, সারোয়ার হোসেন শাওন, মো. ইমরান হাসান, মো. আওয়াল মিয়া, মো. আসাদুজ্জামান নূর, মো. রিফাত হোসেন, মো. সৌরভ আহমেদ, মো. শাওন প্রধান, মো. আসাদুজ্জামান, মো. মুরতাজিম বিল্লাহ মাধুর্য, সোহেল রানা, মো. তামিম ইকবাল, মো. মুইন রোমান তুলন, মো. আরাফাত হোসেন, মো. এমদাদুল ফেরদৌস জিম, মো. আসিফ হোসেন, তাসরিয়াফ ইসলাম প্রান্তিক, এম. এইচ. কে. মারুফ, মো. শেহাব শাহারেয়ার, মো. জাফর সিদ্দিক জিশাদ, অঙ্কুর পাল, মো. শরিফুল ইসলাম সোহান, মো. ফারিয়াদ হোসেন, মো. ফয়সাল আহমেদ, মো. শাহজেদুর রহমান, মোহাম্মদ আসিফ এবং এম. এইচ. জামান।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. আবু হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খলা, হামলা, ভাঙচুর ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তদন্তের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

