সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার):
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে গাড়ির আঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় একটি চিতা বিড়াল (Leopard Cat) উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে প্রাণীটি প্রাথমিক চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ হলেও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত প্রায় ১১টা ৫০ মিনিটে শ্রীমঙ্গল টি রিসোর্ট অ্যান্ড মিউজিয়াম সংলগ্ন এলাকায় রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় জাহান আহমেদ ও মোহাম্মদ মিলন একটি বন্যপ্রাণীকে সড়কে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানানো হলে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল,পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ও নিরব নাগ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত প্রাণীটিকে চিতা বিড়াল হিসেবে শনাক্ত করেন।
ধারণা করা হচ্ছে,দ্রুতগতির কোনো গাড়ির ধাক্কায় প্রাণীটি গুরুতর আহত হয়েছে। পরে উদ্ধারকারীরা চিতা বিড়ালটিকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ জানান, মরণাপন্ন অবস্থায় প্রাণীটিকে উদ্ধার করা হয়। আপ্রাণ সেবায় বর্তমানে এটি কিছুটা সুস্থ হলেও উন্নত চিকিৎসা জরুরি। শুক্রবার হওয়ায় দক্ষ বন্যপ্রাণী চিকিৎসক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন,শ্রীমঙ্গলের চা বাগান,ঝোপঝাড় এবং লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন এলাকায় চিতা বিড়ালের বিচরণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। নিশাচর স্বভাবের কারণে খাবারের সন্ধানে তারা প্রায়ই লোকালয় কিংবা চা বাগানের বাংলোর আশপাশে চলে আসে। অনেক সময় সাধারণ মানুষ চিতা বিড়ালের শাবককে ভুল করে চিতাবাঘের বাচ্চা মনে করেন।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন,চিতা বিড়াল অত্যন্ত লাজুক ও নিশাচর প্রাণী হওয়ায় সরাসরি গণনা করা কঠিন। গবেষকরা সাধারণত ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে এদের উপস্থিতি শনাক্ত করেন। লাউয়াছড়া ও রেমা-কালেঙ্গার মতো বনাঞ্চলে এদের উপস্থিতি নিয়মিত দেখা গেলেও মোট সংখ্যা সম্পর্কে কোনো দাপ্তরিক তথ্য নেই।
তিনি আরও জানান,২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী চিতা বিড়াল সংরক্ষিত প্রাণী। খাদ্যের সংকট কিংবা আবাসস্থল কমে যাওয়ায় অনেক সময় এরা লোকালয়ে চলে আসে এবং ভুল ধারণার কারণে মানুষের হাতে নির্যাতন বা হত্যার শিকার হয়।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে,মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া,রেমা-কালেঙ্গা ও পাথারিয়া বনাঞ্চলে চিতা বিড়াল ও প্রকৃত চিতাবাঘ উভয়েরই বিচরণ রয়েছে। তবে ঘন বন ও নিশাচর আচরণের কারণে এদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ এখনো সম্ভব হয়নি। দেশে চিতাবাঘের সংখ্যা ৩০ থেকে ৫০টির মধ্যে বলে ধারণা করা হলেও চিতা বিড়ালের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি বলে মনে করা হয়।
উল্লেখ্য,বাংলাদেশে চিতা বিড়ালের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য জাতীয় জরিপ নেই। তবে ২০২৬ সালের শুরুতে বন বিভাগ ও আইইউসিএন বাংলাদেশ জাতীয় বন্যপ্রাণী লাল তালিকা হালনাগাদের কাজ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন,এ উদ্যোগের মাধ্যমে চিতা বিড়ালসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর বর্তমান অবস্থা ও সংখ্যা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। আইইউসিএন-এর তথ্য অনুযায়ী, চিতা বিড়াল বর্তমানে ‘প্রায়-বিপন্ন’ (Near Threatened) শ্রেণিভুক্ত প্রাণী।

