সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ব্যক্তিগত আর্থিক ও সম্পত্তি সংক্রান্ত একটি ডিভোর্স সেটেলমেন্টের নথি প্রকাশ্যে এসেছে। এতে কোটি ডলারের আর্থিক লেনদেন, শেয়ার হস্তান্তর এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক আয় বণ্টনের বিস্তারিত শর্ত উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জয়ের সাবেক স্ত্রী ক্রিস্টিন ওয়াজেদের সঙ্গে সম্পাদিত ওই চুক্তিতে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহায়তা, বিভিন্ন কোম্পানির মালিকানা বণ্টন এবং একটি ট্রাস্ট কাঠামোর বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চুক্তিতে ডিজিকন টেকনোলজিস এবং ফিনটেক সলিউশনস–এ জয়ের মালিকানার ৫০ শতাংশ শেয়ার তার সাবেক স্ত্রীর নামে হস্তান্তরের শর্ত রাখা হয়।

নথিতে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত শর্ত কার্যকর হওয়ার পর উভয় পক্ষ নিজ নিজ নামে থাকা শেয়ারের পূর্ণ মালিকানা পাবেন এবং সংশ্লিষ্ট কর ও দায়ভার নিজ নিজভাবে বহন করবেন।
চুক্তির আরেক গুরুত্বপূর্ণ অংশে সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড থেকে সম্ভাব্য আয় বা শেয়ার প্রাপ্তির বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, জয়ের ভবিষ্যৎ যেকোনো আয় বা সম্পদ থেকে প্রাপ্ত অর্থের ৩০ শতাংশ তাদের কন্যা সোফিয়ার জন্য গঠিত একটি ট্রাস্টে জমা দিতে হবে।

ট্রাস্টের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে একজন আইনজীবীকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে, এবং ট্রাস্টের অর্থ সন্তানের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবিকা নির্বাহে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া চুক্তিতে ব্যক্তিগত আর্থিক দায়ের অংশে এককালীন ১০ লাখ ডলার এবং দীর্ঘমেয়াদি মাসিক ভরণপোষণের বিষয়ও উল্লেখ আছে, যা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চলমান থাকবে বলে নথিতে বলা হয়।

ডিভোর্স সেটেলমেন্টটি এমন সময়ে সামনে এলো যখন জয়ের বিদেশে সম্পদ ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধানের খবর রয়েছে। বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সম্পদ, বিলাসবহুল গাড়ি এবং অর্থপাচারের সম্ভাব্য অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে বলে জানা যায়।
তবে এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অস্বীকার করেছেন সজীব ওয়াজেদ জয়।

