এম.শাহীন আল আমীন, জেলা প্রতিনিধি :
ভিজিএফ কার্ড নিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পাতাফাঁদে ফেঁসে গিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি। নিজেদের পক্ষে সাফাই গেয়েও ঘটনা চাপা দেওয়া মুশকিল হয়ে পড়েছে। সরসরি ফেসেঁ গেছেন বিএনপির সিনিয়র তিন নেতা।
ভিজিএফ কার্ডের পঞ্চাশভাগ দলীয় কোটা নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ।
জানা গেছে, ঈদ উল আযহা উপলক্ষে সরকার অন্যান্য ইউনিয়নের মতই বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নে আট হাজার ৪৮টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্ধ পায়। কার্ড গুলো ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে হতদরিদ্রদের মাঝে বিতরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রতিজন কার্ডধারী বিনামূল্যে ১০ কেজি করে চাল পাবে। ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে কার্ডধারীদের চাল বিতরণ হয়।
বরাদ্ধকৃত কার্ডের মধ্যে দলীয় কোটার অংশ হিসেবে বিএনপির নেতারা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশের কাছে পঞ্চাশভাগ কার্ড দাবি করে। দাবি পুরণে বৃহস্পতিবার(২১ মে) বিকালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিএনপির তিনজন সিনিয়র নেতার হাতে চার হাজার ২৪টি ভিজিএফ কার্ড তুলে দেন। ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে তাদের মাঝে কার্ড গুলো হস্তান্তর করা হয়। কার্ড গুলো বিতরণ কালে ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ কৌশলে ভিডিও করে রাখেন।
বৃহস্পতিবার রাতে ভিডিও ফুটেজটি সোসাল মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয়। ভিডিও ফুটেজে কার্ড গুলো বুঝিয়ে দেওয়ার সময় চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ বক্তব্য দিয়েছেন। বিএনপিনেতারাও বক্তব্য দিয়েছেন। সোসাল মিডিযায় প্রকাশের পর বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে বিএনপির নেতারা।
উপজেলা বিএনপি বলেছে দলীয় কোটা বলতে কোন কিছু নেই। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক ভিজিএফ কার্ড বিতরণ হবে। এর বাইরে কোন কিছু করার সুযোগ নেই।
যারা কার্ড বুঝে নিয়েছেন তারা হলেন- উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হাসিবুল হক সঞ্জু, ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বেলায়েত হোসেন বুলাল ও সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম।
বৃহস্পতিবার রাতে কার্ড বিতনের একটি ভিডিও সোসাল মিডিয়ায় ফাসঁ হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুর রহমান বলেন, ভিজিএফ চালের কার্ড গরীব মানুষের জন্য বরাদ্ধ। সেই বরাদ্ধ দলীয় কোটায় বন্টন করা হলে হতদরিদ্র পরিবার গুলো সুবিধা বঞ্চিত হবে।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ বলেন, চাপের মুখেই কার্ড গুলো দেওয়া হয়। দলীয় নির্দেশনার বাইরে কিছু করা হয়নি। বিষয়টি ওপেন সিক্রেট।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, দলীয় কোটার বিষয়ে দল থেকে কোন নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। সরকারি নীতিমালানুয়ায়ি ভিজিএফ কার্ড বিতরন হবে। এর কোন বিকল্প নেই।
বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুরাদ হোসেন বলেন, নীতি মালার বাইরে কেউ কিছু করে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।

