দিনাজপুর প্রতিনিধি :
দিনাজপুরে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্পের আওতায় এক আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দিনাজপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালকের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
দিনাজপুর অঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত
পরিচালক (ডিএই) কৃষিবিদ রিয়াজ উদ্দিন।
এই কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন, দিনাজপুর অঞ্চলের উপপরিচালক কৃষিবিদ আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে
কর্মশালায় দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, মাশরুম চাষের উদ্যোক্তা, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষক এবং মাশরুমভিত্তিক বিভিন্ন খাদ্য ও কারি প্রস্তুতকারক ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে পুষ্টিকর খাদ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় মাশরুম চাষ দেশে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে গড়ে উঠছে। স্বল্প জায়গা ও কম খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় তরুণ উদ্যোক্তা, নারী এবং শিক্ষিত বেকারদের জন্য মাশরুম চাষ একটি কার্যকর আয়ের উৎস হতে পারে। পাশাপাশি পুষ্টিহীনতা দূরীকরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতেও মাশরুম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্য, প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ রিয়াজ উদ্দিন বলেন,মাশরুম শুধু একটি খাদ্য নয়, এটি পুষ্টি নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং দারিদ্র্য বিমোচনের একটি কার্যকর মাধ্যম। বর্তমান সময়ে কৃষিকে বহুমুখীকরণের যে উদ্যোগ সরকার গ্রহণ করেছে, সেখানে মাশরুম চাষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে দিন দিন চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। কিন্তু মাশরুম এমন একটি ফসল, যা অল্প জায়গায়, ঘরের ভেতরেও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন করা সম্ভব। এতে খরচ কম হলেও লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি। বিশেষ করে নারীদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মাশরুম চাষ বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি কৃষি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক ও তরুণ উদ্যোক্তাদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। শুধু প্রশিক্ষণ দিলেই হবে না, উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে মাশরুম চাষ আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাশরুমে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে, যা মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে অত্যন্ত কার্যকর। অপুষ্টি দূর করতে এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে মাশরুমের ব্যবহার বাড়াতে হবে। এজন্য গণসচেতনতা তৈরি জরুরি।
সরকারের বিভিন্ন কৃষিবান্ধব প্রকল্পের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিকে লাভজনক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে কাজ করছে। মাশরুম খাতকে বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করা গেলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। বেকার যুবক-যুবতীরা স্বল্প পুঁজিতে উদ্যোক্তা হয়ে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারবে।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা মাশরুম উৎপাদন, সংরক্ষণ, বিপণন এবং মাশরুমভিত্তিক বিভিন্ন খাদ্য প্রস্তুত ও বাজার সম্প্রসারণ বিষয়ে মতবিনিময় করেন। এছাড়াও মাশরুম দিয়ে তৈরি বিভিন্ন রেসিপি প্রদর্শন করা হয়, যা উপস্থিত অতিথিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

