জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় গ্যাস উৎপাদনে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কামতা-২ এবং তিতাস ফিল্ডের তিনটিসহ মোট চারটি নতুন কূপ খননের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এসব কূপ থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে দৈনিক প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বুধবার (২০ মে) গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার কামতা গ্যাস ফিল্ডে ‘মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন’ কূপ খনন কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, নতুন কূপগুলো থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু হলে শিল্পকারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে, যা বন্ধ থাকা অনেক উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে সহায়তা করবে। এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং গ্যাস আমদানির ওপর চাপ কমে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় ঘটবে।
তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে স্বনির্ভরতা অর্জন সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। পর্যায়ক্রমে দেশকে আমদানি নির্ভরতা থেকে বের করে এনে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি নিশ্চিত করা সহজ নয়। তবে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিস্থিতি উন্নয়নে কাজ করছে।
আবাসিক গ্যাস সংযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমানে সরকারের অগ্রাধিকার শিল্প ও বিদ্যুৎ খাত। এসব খাতে সরবরাহ নিশ্চিত করার পর ধাপে ধাপে আবাসিক খাত বিবেচনায় আনা হবে।
অনুষ্ঠানে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান, বিজিএফসিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুল জলিল প্রামানিক এবং প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

