দেওয়ান মাসুকুর রহমান
সাম্রাজ্যবাদ- ধর্মীয় ফ্যসিবাদ বিরোধী সংগ্রাম এই মূহুর্তে এদেশের জনগণের কাছে প্রধান কর্তব্য বলেই বিবেচনায় নিতে হবে। স্বাধীনতা উত্তর কাল থেকেই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ এদেশে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক- সাংস্কৃতিক কর্তৃত্ব অর্জনের লক্ষ্যে বার বার রেজিম চেঞ্চ করেছে।
দেশের সামরিক শাসন হত্যা ক্যু সাম্প্রদায়িকতা ধর্মীয় মৌলবাদ সাম্প্রদায়িকতা নির্ভরতার রাজনীতি হচ্ছে ও তার ফসল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের যে ঘোষণা এবং যার ভিত্তি ‘৭২ এর সংবিধান তা লুটেরা শাসক গোষ্ঠির দলের শাসন পদ্ধতির জন্য জনগণের স্বার্থের আকাঙ্খার সংগে মিলতে পারে নি। এই উপমহাদেশে ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের উত্থান একটি নয়া বিপদ। দেশকে বাঁচাতে হলে এদেশের বাম প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন মানুষদের সাম্রাজ্যবাদ ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করতে হবে; শ্রমজীবি মেহনতী মানুষকে সংগঠিত করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ ও আমাদের স্বাধীনতার মৌলিক ভাবাদর্শের উপর দাড়িয়ে জাতি গঠনের কাজ করতে হবে। অসাম্প্রদায়িক, ন্যায্যতা-সমতার রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি সেই লড়াই অদ্যাবধি অব্যহত রেখেছে।
রবিবার (১৭ মে ২০২৬) বিকাল ৪টায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ৫৪তম প্রতিষ্টা বার্ষিকীর আলোচনায় প্রধান বক্তা বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জননেতা কমরেড নুর আহমদ বকুল উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন।
শহীদ রাসেল আহমেদ খান ভবনে বিকেল ৪টায় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিকের সভাপতিত্বে উক্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জননেতা কমরেড নুর আহমদ বকুল তার বক্তৃতায় আরও বলেন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কমরেড রাশেদ খান মেননকে মিথ্যা হত্যা মামলায় আটকে রাখা হয়েছে যা সম্পূর্ণ ভাবে বে-আইননি। পাকিস্তান আমল থেকে গ্রেফতার হবার দিন পর্যন্ত পর্যন্ত এদেশে সাম্রাজ্যবাদ মৌলবাদ, স্বৈরাচার বিরোধী সকল সংগ্রামের একজন সফল নেতা। তিনি মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান অনস্বীকার্য। অবিলম্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড রাশেদ খান মেননকে মুক্তি দিতে হবে। জননেতা কমরেড ফজলে হোসেন বাদশা, কমরেড মুস্তফা লুৎফুল্লাহ সহ কেন্দ্রীয় নেতাদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন পলিটব্যুরো সদস্য কমরেড নজরুল হক নীলু, কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড আবুল হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ওয়ার্কার্স পার্টির আহবায়ক কমরেড কিশোর রায়, ঢাকা মহানগর উত্তর ওয়ার্কার্স পার্টির আহবায়ক কমরেড সাদাকাত হোসেন খান বাবুল, খেতমজুর নেতা জাকির হোসেন রাজু, কৃষক নেতা দীপংকর সাহা দীপু, শ্রমিক নেতা সাব্বাহ আলী খান কলিন্স, নারী নেত্রী শিউলী সিকদার, গার্হস্থ্য নারী নেত্রী মুর্শিদা আখতার নাহার, যুবনেতা তৌহিদুর রহমান, ছাত্র নেতা অতুলন দাস আলো প্রমুখ।
সভা পরিচালনা করেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মিডিয়া সেল ইনচার্জ কমরেড মোস্তফা আলমগীর রতন।

